ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের পর খুলনা মহানগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। শুরুতে প্যাডেলচালিত রিকশা কম থাকলেও, ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, পায়ে চালানো রিকশায় বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, নগরীতে আর কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেওয়া হবে না। এখনো যারা রিকশা থেকে ব্যাটারি ও ইঞ্জিন অপসারণ করেনি, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুই বছর আগে হঠাৎ খুলনা মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল শুরু হয়। কিছুদিন পর এই রিকশার ভিড়ে হারিয়ে যায় প্যাডেলচালিত রিকশা। ইজিবাইকের সঙ্গে নগর দাপিয়ে বেড়াতে থাকে। পাল্লা দিতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটাত। টাকার বিনিময়ে এসব রিকশার ব্যাটারি চার্জের জন্য নগরীতে সাড়ে তিন শ অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট গড়ে ওঠে। এতে রাজস্ব হারাতে থাকে সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ।
এমন প্রেক্ষাপটে কেসিসি ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের উদ্যোগ নেয়। তিন দফা সময় দিয়ে ১৫ অক্টোবর একেবারে বন্ধ করে দেয়। যদিও এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চালকরা ধর্মঘট করেন। ধর্মঘটের সঙ্গে মালিকরা ব্যাটারি ও ইঞ্জিন অপসারণ না করায় শুরুতে নগরীতে রিকশার সংকট দেখা দেয়। এতে নগরবাসী ভোগান্তিতে পড়েন। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইজিবাইক ও মাহিন্দ্রচালকরা দুই থেকে তিন গুণ ভাড়া আদায় করছেন।
নগরীর শেখপাড়ার তেঁতুলতলা মোড়ের বাসিন্দা শেখ আবুল বাশার অভিযোগ করেন, তেঁতুলতলা মোড় থেকে বড়বাজার পর্যন্ত রিকশা ভাড়া ২০ টাকা। এখন ৩০ থেকে ৪০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। সোনাডাঙ্গা এলাকার গৃহবধূ সেলিনা আক্তার জানান, তার মেয়েরা খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল এবং কেসিসি উইমেন্স কলেজে পড়ে। ২৫-৩০ টাকা দিয়ে এত দিন আসা যেত। এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকা লাগছে।
তবে রিকশার সংকট হওয়ায় ভাড়া একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকরা। রিকশাচালক বাবুল মিয়া জানান, প্যাডেল রিকশা চালানো কষ্টকর হলেও তাদের জন্য সাশ্রয়ী। দিনে ৬০ টাকা জমায় রিকশা পাওয়া যাচ্ছে, যা ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য ২৫০ টাকা দিতে হতো। রিকশা বাড়লে ভাড়া কমে আসবে বলেও জানান তিনি। অবশ্য গত বৃহস্পতিবার থেকে নগরীতে প্যাডেলচালিত রিকশা চলাচল বেড়েছে।
কেসিসির প্যানেল মেয়র আমিনুল ইসলাম মুন্না জানান, কাউন্সিলররা নিজ নিজ ওয়ার্ডে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে সাড়ে তিন শ চার্জিং পয়েন্ট উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনো রিকশায় ব্যাটারি ও ইঞ্জিন পাওয়া গেলে মালিককে আইনের আওতায় আনা হবে। কিছুদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি। কেসিসির মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, প্যাডেলচালিত রিকশা খুলনার ঐতিহ্য। এতে ব্যাটারি সংযোজন করে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা হয়েছিল। ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করা হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা রাখতে যা প্রয়োজন, সবই করা হবে।