‘যেকোনো মুহূর্তে জেলে যেতে প্রস্তুত’ মির্জা ফখরুল

গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে বহুবার জেলে গিয়েছি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তৈরি আছি, সব সময় জেলে যাওয়ার জন্য-যেকোনো সময়, যে কোনো মুহূর্তে। কিন্তু অধিকার আদায় না করে কোন দিন পরাজয় স্বীকার করব না। এই দেশ, মাটি ও গণতন্ত্র আমাদের। এর জন্য লড়াই, সংগ্রাম করেছি। আমাদের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করব। সকলকে ঐক্য বদ্ধ ভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান মির্জা ফখরুলের।

সোমবার দুপুরে জেলা কৃষক দল আয়োজিত মির্জা রুহুল আমীন মিলনায়তনে ঠাকুরগাঁও কৃষক দলের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে না। এটাও প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে রাজনীতি থেকে দুরে রাখবার জন্য অন্যায়, বেআইনি ও অমানবিকভাবে দেশ নেত্রী খালেদা জিয়াকে আটক করে রেখেছে। তাকে (খালেদা জিয়া) সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজ দেশের মানুষ কোথাও বিচার পায় না, সু-শাসন নেই। কোন এলাকায় ধনী লোক থাকলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ধরে নিয়ে এসে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা নেয়। তাই সারা দেশের মানুষ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার- নতজানু পুতুল সরকার। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বন্ধু রাষ্ট্র ভারত এবং চীন এখন নীরব। নতজানু পররাষ্ট্রনীতি দিয়ে কোন দিন জাতিকে এই সরকার বিশ্ব দরবারে উঁচু স্থানে নিয়ে যেতে পারবে না।

তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশকে ক্যাসিনো রাষ্ট্র বানাতে চায়। যে দেশে কৃষকের উন্নয়ন নেই, তার পণ্যের দাম পায় না। সেখানে সরকার কৃত্রিম ভাবে উন্নয়ন দেখিয়ে যাচ্ছে। এই উন্নয়ন আত্মহননকারী উন্নয়ন। যে উন্নয়ন পরনির্ভরশীল করে দেবে, যে উন্নয়ন ঋণগ্রস্ত করবে- সে উন্নয়ন, উন্নয়ন হতে পারে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার শুদ্ধ নয় বলেই শুদ্ধি অভিযান করছে, এ সরকারের সারা গায়ে কাঁদা লেগে গেছে। কিন্তু এই শুদ্ধি অভিযান চুনোপুঁটিদের নিয়ে করা হচ্ছে।

সম্মেলনে জেলা কৃষক দলের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সদস্যসচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন প্রমুখ।

এর আগে মির্জা ফখরুল জেলা কৃষক দলের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সম্মেলন উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা সকাল থেকে দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হয়ে র‌্যালি নিয়ে আসে সম্মেলন স্থলে।

সর্বশেষ ২০০৭ সালে ঠাকুরগাঁও কৃষক দলের সম্মেলন হয়েছিল। ১২ বছর পর এবার অনুষ্ঠিত হলো এই সংগঠনের সম্মেলন।