নিজের দেশকে জানতে ইস্ট ডেল্টায় মাবুদা

নিজেকে ‘থার্ড কালচার কিড’ বলতে ভালোবাসেন মাবুদা। তিনি জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হলেও পিতার কর্মসূত্রে শৈশব কাটে নরওয়েতে। পরে পিতা-মাতার হাত ধরেই চলে যাওয়া মালয়েশিয়ায়। পরিবারের সদস্যের মাধ্যমেই নিজের দেশটাকে জানতে পেরেছেন, তাও খুব অল্পই। তাই নিজেকে একক কোনো দেশের নাগরিক হিসেবে দেখতে চান না ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার (আইআইইউএম) শিক্ষার্থী মাবুদা জামেউন নেসা।

অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ ব্যবসা প্রশাসনের এই শিক্ষার্থীর। পৃথিবীর নানা দেশে বসবাস, ঘোরাঘুরি ও মানুষের সঙ্গে মেলামেশার সুবর্ণ সুযোগ পাওয়া এ শিক্ষার্থী চাইলে সেসব দেশের যে কোনোটিতেই যেতে পারতেন নিজের আন্ডারগ্র্যাজুয়েটের ইন্টার্নশিপের জন্য, কিন্তু তিনি বেছে নিলেন চট্টগ্রামের ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিকেই।

দীর্ঘ প্রবাস জীবনের মাঝে মাত্র এক বছর তিনি ছিলেন নিজ বাসভূমে। তাই তিন মাসের এ ইন্টার্নশিপ যেন তার নিজের দেশেই ফিরে আসা। নিজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মানুষদের সঙ্গে মেশা, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা লাভ, সবকিছুই পেয়েছেন ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি তথা ইডিইউতে এসে।

মাবুদার ভাষায়,  ‘স্কান্ডিনেভীয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় আর বঙ্গীয় সংস্কৃতির সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে আমার সাংস্কৃতিক পরিচয়। বিশ্বায়নের এ যুগে বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতির মেলবন্ধনের জোয়ার যখন তুঙ্গে, তখন এই সংমিশ্রণ আমাকে নানানভাবে উপকৃত করে, অন্যদের তুলনায় আলাদা করে তোলে।’

তারপরও, নিজের পরিবারের বাইরে বাঙালি সংস্কৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কে তেমন ধারণা না থাকায়, আগ্রহের পাশাপাশি তার মধ্যে কাজ করছিল উৎকণ্ঠাও।

তিনি বলেন, ‘খাপ খাইয়ে নিতে পারার চ্যালেঞ্জ আমি সবসময় উপভোগ করলেও, সামাজিক রীতি-নীতি ও ভাষাগত জ্ঞানের অপারদর্শিতার বিষয়ে আমি আগে থেকেই সচেতন ছিলাম।’

নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে মাবুদা বলেন, ‘ইডিইউতে কাজ করতে পারা আমার জীবনের অন্যতম  গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। নিঃশর্ত সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি সবার কাছ থেকে, যা আমাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জটিল কার্যক্রম  বাইরে থেকে বোঝা যায় না, তার পরিশীলিত ধারণা লাভ করেছি এই ক’মাসে।’

মাবুদার ভবিষ্যৎ  জীবনের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন ইডিইউর প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে পৃথিবী অনেক বেশি সংবদ্ধ ও সংযুক্ত। তাই বহুমাত্রিক যোগাযোগে সক্ষমতা অর্জন করতে হয়।  আমাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে  এ ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও এ দেশের শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ খুব একটা পায় না। তাই ইডিইউর শিক্ষার্থীদের আমরা ইন্টারন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট এক্সপেরিয়েন্স দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে নিয়ে যাচ্ছি। একই সঙ্গে বিদেশের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আমাদের দেশে আসাটাও প্রয়োজন, যা আদতেই হয় না। মাবুদা'র ইস্ট ডেল্টায় আগমনে তাই শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়েছে।’