ছয় সাংগঠনিক জেলার প্রতিনিধি সভার মঞ্চ থেকে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিনকে বসতে না দেওয়ায় প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা ক্ষোভ জানিয়েছেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মহিউদ্দিন অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েক শ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
তবে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলছেন, আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভামঞ্চে কারা বসবেন, তা আগে থেকেই কেন্দ্রীয় নেতারা সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন।
হাসিনা মহিউদ্দিন প্রয়াত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের মা।
রোববার চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের ছয় সাংগঠনিক জেলার প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফসহ আরো কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং চট্টগ্রামের ছয় সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মঞ্চে হাসিনা মহিউদ্দিনসহ আরো কয়েকজন বসতে চাইলে সেখান থেকে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন মঞ্চে না বসার অনুরোধ জানান।
হাসিনা মহিউদ্দিনও তখন মঞ্চ থেকে নেমে যান।
বিষয়টি নিয়ে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আ জ ম নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন।
এরপর আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী একটি আবেগের নাম। যিনি চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের প্রাণ ছিলেন এবং ১৫ বছর সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন করেছেন। তার স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা মানে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে করা।
এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা, আ জ ম নাছিরকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলেন। নয়তো লাগাতার কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
আ জ ম নাছির উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী আমাদের সবার শ্রদ্ধেয় নেতা। মঞ্চে বসা না বসা নিয়ে রাজনীতির ইস্যু তৈরি করা তো ঠিক নয়। চট্টগ্রামের ছয় সাংগঠনিক জেলার প্রতিনিধি সভামঞ্চে কে বসবেন, তা কেন্দ্রীয় নেতারা ঠিক করে দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতা, সংসদ সদস্য, ছয় জেলার সভাপতি, বয়োজ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে মঞ্চে বসার নির্দেশনা দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
তিনি বলেন, সে অনুসারে শৃঙ্খলা রক্ষায় মঞ্চ থেকে নেমে সামনের সারিতে বসার অনুরোধ করেছি এবং যাদের অনুরোধ করেছি তারা কথা রেখেছেন। এখানে কাউকে তো নামিয়ে দেওয়া হয়নি। এ বিষয় নিয়ে অপরাজনীতি করা হচ্ছে। দলের নির্দেশনা অনুসারে শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি এবং আমরা প্রতিনিধি সম্মেলন শেষ করেছি। সমসাময়িককালে এ রকম সুশৃঙ্খল প্রতিনিধি সভা হয়নি।