গাজীপুরে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই ড্রেন নির্মাণ

গাজীপুর মহানগরীর উন্নয়নকাজে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। নগর কর্তৃপক্ষ ও পল্লী বিদ্যুতের সমন্বয়হীনতায় হাজারো খুঁটি মাঝ রাস্তায় এবং ড্রেনের ভেতরে রেখে চলছে নির্মাণকাজ। এতে নগরবাসী ভোগান্তিতে পড়ছেন।

সরেজমিনে গত মঙ্গলবার দেখা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে বাসন স্কুল পর্যন্ত রাস্তায় ২ হাজার ৪০০ মিটার এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে শরীফপুর রাস্তার একপাশে ১ হাজার ৫০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় দুই বছর আগে শুরু করা হলেও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। এতে বাসন সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার সারা বছর পানিতে তলিয়ে থাকছে।

খানাখন্দে ভরা শরীফপুর সড়ক। এ জন্য সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করছে। এরই মধ্যে দুই মাস ধরে এ সড়কে নতুন করে ড্রেনের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ড্রেন নির্মাণ করছেন। স্থানীয়রা নিষেধ করলেও তা শোনেননি ঠিকাদার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে আগে থেকেই পানি জমে আছে। এখন ড্রেন খননের মাটি ফেলা হচ্ছে। এতে কাদায় সড়ক একাকার। ঠিকাদারদের খামখেয়ালিপনায় প্রতিদিন বাসন সড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার পোশাকশ্রমিক ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন জানান, মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে ড্রেন করলে পয়ঃনিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হবে। পলিথিন ও আবর্জনা জমে ড্রেন বন্ধ হয়ে যাবে। এতে ড্রেনের কাঙ্ক্ষিত সুফলের পরিবর্তে দুর্ভোগ বাড়বে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর জন্য গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হলে, এ জন্য তারা ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা দিতে বলে। কিন্তু খুঁটি সরানোর জন্য সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ ৪০ লাখ টাকা।

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী যুবরাজ চন্দ্র পাল বলেন, গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে বিপুলসংখ্যক খুঁটি সরানোর টাকা নেই। চিঠি দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন অর্থ দিলে খুঁটি সরানো হবে। তবে নির্মাণকাজ চলাকালে জরুরিভাবে খুঁটি সরানোর দরকার পড়লে জনস্বার্থে তা করা হবে।

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ খুঁটি সরাতে অপারগতা প্রকাশ করলে, ঠিকাদারকে বৈদ্যুতিক খুঁটি সড়কের পাশে রেখে ড্রেন নির্মাণ শেষ করতে বলা হয়। এরপরও তারা কেন ড্রেনের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রাখছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।’