ইরাকে ধর্মীয় নেতা মুক্তাদা আল সদরের কথাই শেষ কথা। বিক্ষোভ, নির্বাচন, গোপন মধ্যস্থতা অথবা সরকারের কোনো নীতিমালার বিষয়ই হোক, সবকিছুতেই তার কথাই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। তার একটি মাত্র টুইট বার্তায় ইরাকের যেকোনো সরকারের পতন হতে পারে। সাবেক এ মিলিশিয়া নেতা ক্রমেই দেশটির মুকুটহীন বাদশাহে পরিণত হয়েছেন।
মাত্র এক বছর আগে ইরাকের দ্বিধাবিভক্তির রাজনীতিতে ক্ষমতার চর্চায় নিজের আসন পাকাপোক্ত করেন সদর। ইরাকের চলমান বিক্ষোভের মাঝে ফের তিনি চলতি সপ্তাহে প্রকাশ্যে এসেছেন। লন্ডনভিত্তিক থিংকট্যাংক চ্যাথাম হাউজের গবেষক রেনাদ মানসুরের মতে, ‘তার (সদর) গঠিত সরকার ব্যর্থ হওয়ায়, সেই সরকারকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সদর একজন বহুমুখী প্রতিভাধর মানুষ যিনি রাস্তায় যান এবং রাজনীতিতে ভূমিকা পালন করেন।’
মুক্তাদার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল অন্য প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ বাকের আল সদরের। ১৯৮০ সালে সাদ্দামের আমলে তাকে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনা তরুণ মুক্তাদাকে প্রভাবিত করে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সাদ্দাম হোসেনের পতন হওয়াকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগান তিনি। তৎকালীন সময়ে তিনিও সাদ্দামের বিরোধিতা করেছিলেন নিজস্ব মেহদি আর্মি নিয়ে।
২০০৬ সালে প্রায় আচমকাই গায়েব হয়ে যান মুক্তাদা। ২০১১ সালে ইরাকের নাজাফ শহরে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত তিনি ইরানের কওম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন এবং একজন ধর্মীয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। ইরাকে ফিরেই তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন। আর এ ক্ষেত্রে দেশটির দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে তিনি বেছে নেন ‘গ্রিন জোনকে’।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে তা অবস্থানের ধারাবাহিকতায় গত বছর পার্লামেন্টের ৩২৯ আসনের উল্লেখযোগ্য আসন জিতে যান তিনি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ফাত্তাহর সঙ্গে জোট বাঁধেন। এ জোট থেকেই আদেল আবদেল মাহদিকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়।
সিঙ্গাপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিভাগের বিশেষজ্ঞ ফানার হাদ্দাদের মতে, ‘সদর নিজেকে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করেন। বহু মানুষ যারা এ ব্যবস্থার সংস্কার চান তাদের পক্ষ হয়ে কথা বলার মুখপাত্র তিনি। কিন্তু সদর ইরাকের রাজনৈতিক শ্রেণির অন্যতম হিস্যা।’
অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে চলমান আন্দোলনে ইতিমধ্যেই ২৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আর এ বিক্ষোভকেই কাজে লাগিয়ে আবারও ইরাকের রাজনীতির চালকের আসনে বসে পড়েছেন মুক্তাদা।