শাসকগোষ্ঠীর বাক্স্বাধীনতা আছে, তারা বাক্-সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক আসিফ নজরুল বলেছেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. কামাল হোসেনদের বিরুদ্ধে যা খুশি বলে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাক্স্বাধীনতা প্রশ্নে দেশ উত্তর কোরিয়ার পথে যাচ্ছে। স্বাধীন দেশে পরাধীনতা নিয়ে বেঁচে থাকা যন্ত্রণার।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত ‘হুমকির মুখে বাক্স্বাধীনতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, যুগে যুগে চিন্তাকে আটকে দেওয়া হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। সব জায়গায় শাসকদের কঠোর সমালোচনা হয়। এর মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র টিকে থাকে। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষেত্রে বাধা এলে সেটা রাজনৈতিক ব্লাসফেমি। বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরারকে হত্যা করা হয়েছে মত প্রকাশের জন্য। তর্কহীন, প্রশ্নহীন সমাজ মৃত সমাজ। নিজেদের বাঁচার জন্য, রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রধান স্তম্ভ বাক্স্বাধীনতা। বাক্স্বাধীনতা না থাকলে কোনো সৃষ্টিশীল কাজ হয় না।
আলোচনা সভায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাদহীন মালিক বলেন, সামন্ত যুগের আইনে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপরাধের ধারা ছিল। ১৮৫০ সাল নাগাদ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে এ বিষয় বিশ্বের প্রায় সব জায়গার আইন থেকে ওঠে গেছে। এটি দেওয়ানি বিষয়।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু এ দেশে একের পর এক বিভিন্ন আইনে ভাবমূর্তির বিষয়টি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে। এটি মূলত করা হয় বাক্স্বাধীনতা রোধ করার জন্য। দেশ রাজা-বাদশার যুগে ফিরে যাচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে সমাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পথে চলে যাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক শিক্ষক সি আর আবরার বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা অধিকার। এটি কারও দান নয়। সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপণ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই আইনে এখন পর্যন্ত ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এর মধ্যে ৮ জন সাংবাদিক। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।