শিক্ষার্থীর মৃত্যু

রেসিডেন্সিয়ালে বিক্ষোভ, তদন্ত কমিটি

ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুল আবরারের বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর ঘটনায় চার দফা দাবি জানিয়ে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার স্কুলের প্রধান ফটকে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি জানায় তারা। গত শুক্রবার বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাসে কিশোর আলোর বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় আবরার। এ ঘটনা তদন্তে শুক্রবার কলেজ কর্র্তৃপক্ষ গঠিত তিন সদস্যের কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে অনুষ্ঠানটির আয়োজক কিশোর আলো কর্র্তৃপক্ষ বলেছে, এ দুর্ঘটনাটি কেন ঘটল তা খতিয়ে দেখা হবে।

আবরার রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির দিবা শাখার শিক্ষার্থী ছিল। কলেজ কর্র্তৃপক্ষের ভাষ্য, গত শুক্রবার বিকেলে কলেজমাঠে অনুষ্ঠান মঞ্চের পেছনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সে। সেখানে জরুরি মেডিকেল ক্যাম্পের দুজন চিকিৎসক আবরারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে মহাখালীর বেসরকারি ইউনিভার্সেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে রাতে কলেজমাঠে জানাজা শেষে আবরারের মরদেহ গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ধন্যপুরে নেওয়া হয়। গতকাল সকালে সেখানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

গতকাল শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রেসিডেন্সিয়াল কলেজের মূল ফটকের বাইরে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় চার দফা দাবি পূরণে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয় তারা। শিক্ষার্থীরা বলেছে, এ সময়ের মধ্যে দাবিগুলো পূরণ না হলে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। চার দফা দাবি হলোÑ ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও সব ছবি দেখাতে হবে, স্কুলের পাশেই ভালো হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও কেন আবরারকে দূরের হাসপাতালে নেওয়া হলো তা জানাতে হবে, আবরারের মৃত্যুর দায় স্বীকার করে আয়োজক কর্র্তৃপক্ষকে লিখিত এবং প্রেস ব্রিফিং করে ক্ষমা চাইতে হবে এবং স্কুলের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। 

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদ বলেন, ‘নাইমুল আবরারের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে, মানববন্ধন করছে, আমরা সেটাকে নৈতিকভাবে সমর্থন করি। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি আমরা। ইতিমধ্যে এক জরুরি সভার মাধ্যমে আমাদের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে সেটার পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আমাদের কথা হয়েছে। তাদের বিশৃঙ্খলা অথবা অনাকাক্সিক্ষত কিছু না করার জন্য বলা হয়েছে। তারা আমাদের সে বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে।’

এদিকে আবরারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘আবরারকে চিরকাল স্মরণ করা হবে। এ দুর্ঘটনা কেন ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

অন্যদিকে আবরারের মৃত্যুর খবর জানার পরও অনুষ্ঠান চলার অভিযোগ এনে ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।