বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফিন (আরেফিন মাতিন)। রাষ্ট্রপতির এক আদেশে তাকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সিনিয়র সহকারী সচিব নিলীমা আফরোজ স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ করা হয়, নিয়োগ হওয়া উপাচার্যকে চারটি শর্তে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উপাচার্যের মেয়াদ উল্লেখ করা হয় চার বছর। তবে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন মনে করলে এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিঞা জানান, আমরা আনন্দিত। সংকটময় মুহুর্তে উপাচার্য নিয়োগ না হলে আরো বড় সমস্যায় পড়ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। এর জন্য আমরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।
ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে রাবির ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে, ২০১৪ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য, ২০১৩ সাল থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগেও তিনি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্ব ছাড়াও একাধিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সদস্য, ২০০৪ সালে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হোন। ২০০৪ সালে রাবি শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ও ২০১১ সালে সাধারণ সম্পাদক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি, ১৯৯৮ সালে রাবির নির্বাচিত একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য এবং ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সালে রাবির সহকারী প্রক্ট্রর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ওই শিক্ষকের বর্তমানে ১৮টি প্রকাশনাসহ একটি বই রয়েছে এবং তার তত্ত্বাবধানে চারজন শিক্ষার্থী পিএচইডি ডিগ্রি গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া বর্তমানে তিন শিক্ষার্থীর পিএচইডি ডিগ্রির সুপারভাইজারের দায়িত্বে রয়েছেন।
তিনি ১৯৮৪ সালে রাবির সমাজকর্ম বিভাগ থেকে অনার্স এবং ১৯৮৫ সালে মাস্টার্স পাস করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ থেকে ১৯৯৩ সালে এমফিল ও একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০০৪ সালে পিএইচডি ডিগ্রী গ্রহণ করেন।
টানা ৩৪ দিন আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেওয়ায় উপাচার্য ইমামুল হককে অপসরাণ করা হয়। এরপর দীর্ঘ পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও উপাচার্য নিয়োগ হয়নি।