আরিফসহ ৪ নেতার পদত্যাগ প্রত্যাখ্যান মির্জা ফখরুলের

যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে ক্ষোভ-অসন্তোষের জেরে সিলেট বিএনপির চারজন প্রভাবশালী নেতা পদত্যাগ করতে চাইলেও তাদের পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গিয়ে তারা দলের মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাত করে পদত্যাগপত্র দিলে মহাসচিব তা গ্রহণ না করে সিলেটে যুবদলের কমিটি নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

এসময় মির্জা ফখরুল পদত্যাগে ইচ্ছুক নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘দলের এই দুঃসময়ে পদত্যাগ না করে যার যার অবস্থান থেকে জোরালোভাবে কাজ করে যেতে হবে’। যুবদলের কমিটির ব্যাপারে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করা হবে বলেও মির্জা ফখরুল আশ্বস্ত করেন।

পদত্যাগে ইচ্ছুক চার নেতা হলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্য সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ-ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক ও সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক সামসুজ্জামান জামান।

সামসুজ্জামান জামান ছাড়া অন্য ৩ নেতা মির্জা ফখরুলের সঙ্গে সাক্ষাত করে পদত্যাগের কথা জানান। তবে যৌথ পদত্যাগপত্রে সামসুজ্জামানের সাক্ষরও ছিল বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ বিএনপি নেতা মতিউল বারী খুর্শেদ।

দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর পর গত শুক্রবার সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা হয়। জেলায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সিদ্দিকুর রহমান পাপলুকে আহ্বায়ক ও মকসুদ আহমদকে সদস্য সচিব করে ২৯ সদস্যের এবং মহানগর শাখায় সাবেক ছাত্রদল নেতা নজিবুর রহমান নজিবকে আহ্বায়ক ও শাহনেওয়াজ বক্ত তারেককে সদস্য সচিব করে ২৭ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় যুবদল। কিন্তু উভয় কমিটিতে যুবদলের সক্রিয় অনেক নেতা বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পদবঞ্চিতরা বলছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও গত সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের পছন্দের নেতারাই যুবদলের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। এ কারণে কমিটি ঘোষণার পরপরই শুক্রবার রাতে পদবঞ্চিতরা দফায় দফায় বৈঠক করেন এবং যুবদলের রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

তখন কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল হক চৌধুরী, ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক ও সামসুজ্জামান জামান প্রয়োজনে তারাই পদত্যাগ করবেন বলে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের আশ্বস্ত করেন। এরই আলোকে তারা পদত্যাগপত্র নিয়ে দলের মহাসচিবের কাছে যান।

এ ব্যাপারে আরিফুল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে জানান, তারা পদত্যাগপত্র জমা দিলে দলের মহাসচিব তা গ্রহণ না করে বলেন, ‘সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির বিষয়ে তিনি অবগত আছেন এবং এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।’  

পদত্যাগ প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘পদত্যাগের জন্য আমি চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত। কারণ সিলেটে দল ভুলপথে চলছে। এর প্রতিবাদ করতেই হবে। আমার পদত্যাগের বিনিময়ে দল সঠিক পথে এলে সেটাই হবে বড় প্রাপ্তি।’