বগুড়ার গাবতলীতে পুলিশের মারপিটে এক নববধূ আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মণিরা আক্তার কেমি (১৮) নামের ওই নববধূকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চিকিৎসাধীন কেমির দাবি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা পারিবারিকভাবে আপস করে তাকে ওই যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাবতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন মিয়া। রবিবার রাতে তিনি কেমির স্বামীর বাড়ি গিয়ে প্রথমে তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা এবং পরে বেদম মারপিট করেন। ওই রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে মারপিটের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এসআই রিপন মিয়া।
আহত কেমি গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের খুপি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের মেয়ে এবং একই গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে ইমরান হোসেন সুইটের (২০) স্ত্রী।
চিকিৎসাধীন কেমি জানান, তিনি গাবতলী উপজেলার ফজিলা আজিজ মেমোরিয়াল কলেজে পড়েন। একই কলেজে পড়তেন বর্তমানে তার স্বামী সুইট। গত সেপ্টেম্বর মাসে সুইট কলেজ থেকে ফেরার পথে তাকে উত্ত্যক্ত করায় তার (কেমির) মা মেরিনা বেগম বাদী হয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করা হলে পরের দিন পুলিশ সুইটকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে গ্রামের লোকজন বিষয়টি আপস-মীমাংসার উদ্যোগ নেয় এবং উভয় পরিবার বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই মামলা আপস করে। সেই আপসনামা আদালতে দাখিল করা হলে ৩১ অক্টোবর জামিনে মুক্ত হন সুইট। এরপর গত ১ নভেম্বর পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। এই বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রিপন মিয়া।
কেমি বলেন, গত রবিবার রাত ১০টার দিকে তিনি স্বামীর ঘরে বসে টিভি দেখছিলেন এ সময় সাদা পোশাকে ওই বাড়িতে যান এসআই রিপনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। তারা গিয়ে প্রথমে সুইটের খোঁজ করে। এ সময় তিনি কারণ জানতে চাইলে এসআই রিপন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তাকে না জানিয়ে কেন মামলা আপস করা হলো সেটি জানতে চান তিনি। সেই সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করেন। এর প্রতিবাদ করলে তাকে বেদম মারপিট করা হয়। তার আর্তনাদে আশপাশের বাড়ির লোকজন বেরিয়ে এলে পুলিশ চলে যায়।
যোগাযোগ করা হলে গাবতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন মিয়া বলেন, ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম মামলার অপর আসামি ধরার জন্য। সেখানে কোন নারীর গায়ে হাত দেয়া হয়নি। মামলাটি যে তারা আপস করেছেন সেই বিষয়টি আমি জানতাম না। সেখানে গিয়ে মামলা আপস হওয়ার বিষয়টি জানার পর তিনি ফিরে এসেছেন বলে জানান।
গাবতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর হাসপাতালে গিয়ে ওই নববধূর সঙ্গে আমি কথা বলেছি। আমাকেও তিনি বলেছেন তাকে মারপিট করা হয়েছে। যদিও এসআই রিপন বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। পুরো ঘটনা পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন এসআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।