পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় দুই চোখ উপড়ে ফেলা যুবক শাহজালালকে ছিনতাই মামলায় দুই বছরের কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে খুলনার মহানগর হাকিমের বিচার আদালত-১ (দ্রুত বিচার)-এর বিচারক মো. আমিরুল ইসলাম আলোচিত এ মামলার রায় দেন। রায়ের পর শাহজালালকে কারাগারে পাঠানো হয়।
২০১৭ সালের ১৮ জুলাই নগরীর খালিশপুর এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে শাহজালালকে আটক করে থানা পুলিশ। পরদিন ভোরে দুই চোখ তুলে ফেলা অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ছিনতাইয়ের ঘটনায় সোমা বিশ্বাস নামের এক নারী শাহজালালকে আসামি করে খালিশপুর থানায় মামলা করেন।
শাহজালালের বাবা জাকির হোসেন জানান, শুরু থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে চোখ তুলে ফেলার অভিযোগ ছিল তাদের। এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর খালিশপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম খানসহ ১৩ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন শাহজালালের মা রেনু বেগম। মামলাটি নি¤œ আদালত খারিজ করে দিলে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করেন। এর মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তারা মীমাংসার প্রস্তাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন উপায়ে মামলা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। শাহজালালের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নুরুল হক বলেন, ছিনতাই মামলার একমাত্র আসামি ছিল শাহজালাল। তার কাছ থেকে কিছু উদ্ধার করা যায়নি। তারপরও তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এই রায় প্রভাবিত করা হয়েছে।
শাহজালালের বাবা জাকির হোসেন বলেন, সকাল থেকেই পুলিশের লোকেরা আদালত এলাকায় অবস্থান নেন। তারা কয়েকবার আমাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমরা কোনো কথা বলিনি। তিনি বলেন, আমার ছেলের চোখ নিল, ছেলেকে অন্ধ বানাল এবার তাকে জেলেও ঢোকাল। গরিবের ওপর এমন অত্যাচার, আল্লাহ সহ্য করবেন না।