গান্ধীর রাজ্যে বাংলাদেশ-ভারত লড়াই

আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা

মুখে সেভাবে কেউ স্বীকার করেন না। কিন্তু দিল্লি থেকে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা রাজকোটে এসেছেন কি শুধু ভারতকে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস নিয়ে? দূষণে আক্রান্ত ভারত রাজধানীর অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের একটি সকালের সঙ্গে রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামের যে আকাশ পাতাল পার্থক্য।

তা ঠিক ম্যাচ উইনার মুশফিকুর রহিম কিংবা তরুণ অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন ধ্রুব বা দলের যে কারও শরীরী ভাষায় এখন ভিন্ন এক আত্মবিশ্বাস ফুটে বেরুচ্ছে। চনমনে। ফুরফুরে। নির্ভার। তবে চেতনে কিংবা অবচেতনে দূষিত পরিবেশ থেকে মুক্তির স্বস্তি সবচেয়ে বেশি।

ওখানে সকালকে সকাল মনে হতো না। সূর্য উঠত কালেভদ্রে। মাঠের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পরিষ্কার দেখা যেত না। এখানে যতদূর দৃষ্টিসীমায় আসে তার স্বচ্ছতার শতভাগ দাবি নিয়ে ঝকঝকে। পরিবেশ তো মনের চাঙ্গা ভাবকে আরও বাড়িয়ে দিতে বাধ্য।

৭ তারিখ ভারতের মাটিতে ভারতকে সিরিজ হারিয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গুজরাট রাজ্যে প্রথম অনুশীলনে প্রাণচঞ্চল উপস্থিতি ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু এখন নাকি তাদের মাথায় ওই ‘সিরিজ জিততে হবে’ জাতীয় চাপই নেই! ‘সিরিজ হারা বা জেতার পরিকল্পনা আমরা করছি না’ ৬ টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞ ২০ বছরের আফিফ অনুশীলন শেষে বলছিলেন, ‘আমরা নিজেদের খেলা নিয়ে ভাবছি। নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স করার পর দেখা যাবে।’

ড্যানিয়েল ভেট্টোরি সম্ভবত বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দামি স্পিন বোলিং কোচ। কিন্তু শেষ ম্যাচের একাদশে স্পিনার ছিলেন একজন। গতকাল দেখা গেল শুরুতে খেলোয়াড়দের ফিল্ডিং করাতে ব্যস্ত নিউজিল্যান্ডার। ‘ফিল্ডিংয়ের ব্যাপারে অনেক জোর দেওয়া হচ্ছে যেন প্রত্যেকটা সুযোগ কাজে লাগাতে পারি।‘ তার অফ স্পিন নিয়ে কাজ করছেন ভেট্টোরি? আফিফ জানালেন, ‘নতুন তেমন কিছু শেখা হয়নি। অন্য বোলারদের নিয়ে অনেক কাজ করলেও আমার সঙ্গে ততটা করা হয়নি। আমি সব সময় যেমন করে থাকি, আমাকে সেটাই করে যেতে বলেছেন তিনি।‘

সাকিব-তামিমহীন দল এটা। ২০১৮ সালে আফিফের অভিষেকের সময় দলে যেমন সিনিয়র খেলোয়াড়ের আধিক্য ছিল এখন তেমন নেই। কিন্তু আফিফ জানালেন, ‘আমাদের সিনিয়র খেলোয়াড়রা জুনিয়র খেলোয়াড়দের অনেক বেশি সহায়তা করছেন। যে জিনিসটা আমাদের চাপহীন ও ভীতিহীন ক্রিকেট খেলতে অনেক সাহায্য করেছে।’ আসে প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর ভূমিকাও, ‘আমাদের সব সময় মন খুলে খেলতে বলেন। যে যেভাবে খেলতে পছন্দ করে তাকে সেভাবে খেলার স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে বলেই এভাবে খেলতে পারছে।’

সবাই জানে মরিয়া ভারত শক্তভাবে ফিরতে চাইবে রাজকোটে। কিন্তু বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস কি সেখানে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে? ভারত চাপে কি না এমন প্রশ্নে উপভোগের ভঙ্গিতে ঘোষণা করলেন আফিফ, ‘ভারত চাপে কি না আমি বলতে পারব না। তবে প্রথম ম্যাচে জেতার পর আমরা অনেক আত্মবিশ্বাসী। আমরা আমাদের জায়গা থেকে ভালো অনুভব করছি। এটা (পরের) ম্যাচে আমাদের আরও ভালো খেলতে সাহায্য করবে।’