চলতি মৌসুমে সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কতজন মারা গেছে, সে সংক্রান্ত তথ্য জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা নির্মূলে কি ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে এ সম্পর্কিত অগ্রগতি প্রতিবেদন হলফনামা আকারে আগামী সোমবারের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ আদেশ বাস্তবায়ন করবে।
এডিস মশা ও ডেঙ্গু নিয়ে হাইকোর্টের রুল ও আদেশের প্রেক্ষিতে ধারাবাহিক শুনানিকালে বুধবার বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।
এডিস মশা ও ডেঙ্গু জ্বরের ধারাবাহিক বিস্তারের বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনা হলে গত ২৬ আগস্ট এক আদেশে এডিস মশার আবাসস্থল ধ্বংসে ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপকভাবে মশা নিধনের ওষুধ ছিটানোর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর ২৮ আগস্ট ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চায় আদালত। বুধবার প্রতিবেদন দিতে সময়ের আবেদন করা হলে এ বিষয়ে আগামী ১১ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাজী মাঈনুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের তরফে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা আদালতকে জানিয়েছি। আদালতকে আরও বলেছি, ‘পরিচ্ছন্ন শহর, পরিচ্ছন্ন গ্রাম’ এমন রূপকল্পের ভিত্তিতে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা কাজ করছে।
তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কতজন আক্রান্ত হয়েছে, কতজন মারা গেছে এমন তথ্য জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ১১ নভেম্বরের মধ্যে তা আদালতকে অবহিত করা হবে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছর এডিস মশা ও ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ ভয়াবহ আকারে পৌঁছায়। সরকারি হিসেবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১১২ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত ৯৭ হাজার ১৯৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে বলে সরকারি তথ্যে জানানো হয়েছে।