বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো নির্বাচনে কারসাজি ও নাগরিকদের ওপর নজরদারি করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচডগের মতে, এ প্রক্রিয়া বিশ্বের গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। অন্তত ৬৫টি দেশের ওপর ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যাধুনিক নজরদারি’র প্রমাণের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার ফ্রিডস হাউজ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা তাদের বাৎসরিক রিপোর্ট প্রকাশ করে।
সংস্থাটির রিপোর্টে বলা হয়, নয় বছরের মতো বিশ্বে ইন্টারনেটের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। কিছু দেশের কর্র্তৃপক্ষ দমনপীড়ন চালাতে বা কারসাজির জন্য এখনো প্রয়োজনে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিচ্ছে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রোপাগান্ডা আর্মি। ফ্রিডম হাউজের প্রেসিডেন্ট মাইক আব্রামাওইচ বলেন, ‘অনেক সরকার সেন্সরশিপের চেয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রোপাগান্ডাকে অধিকতর মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে দেখছে। বৈশ্বিক কর্র্তৃত্ববাদীরা ব্যালট বাক্সের নিয়ন্ত্রণ নিতে কম্পিউটার অ্যালগরিদমের পাশাপাশি মানুষকেও ব্যবহার করছে। এতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।’ সংস্থাটির মতে, নির্বাচনে কারসাজি করতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে ভুল তথ্য।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, ‘কট্টর ডানপন্থিরা শুধু গুরুতর ভুল তথ্যই ছড়াচ্ছে না, পাশাপাশি তারা গোটা নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করছে।’ ৬৫টি দেশের মধ্যে ৪৭টি দেশেই অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হচ্ছে অনলাইনে ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কারণে। অন্তত ৩১টি দেশে এসব ইস্যুতে শারীরিক নির্যাতনের মতো ঘটনাও ঘটছে। ইন্টারনেটের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে চীন সবচেয়ে এগিয়ে এমনটা দাবি করা হয় রিপোর্টে। হংকংয়ের আন্দোলনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও তাদের নাগরিকদের ওপর নজরদারিতে ব্যাপক গোপন পদক্ষেপ নিয়েছে। কর্মকর্তারা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনিটরিং করে এবং কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই ভ্রমণকারীদের তল্লাশি চালায়। দেশটিতে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক মাত্রায় ভুল সংবাদের ছড়াছড়ি দেখা যায়। আর এতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরের ও ভিন্ন দেশ থেকেও কলকাঠি নাড়ানো হয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। নজরদারিতে ইন্টারনেট ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। অনলাইনে মানুষ কী ভাবছে বা লিখছে তা নিয়ন্ত্রণ করতে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানো হচ্ছে।