ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, তথ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই বাবরি মসজিদ-রাম মন্দির মামলার রায় হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলেমা-এ-হিন্দের প্রধান আরশাদ মাদানি।
শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার আবেদন জানিয়ে বুধবার তিনি বলেছেন, বিপক্ষে গেলেও রায়কে সম্মান জানাবে তার সংগঠন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, কয়েক দশকের পুরোনো রাজনৈতিক স্পর্শকাতর এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের অবসরের আগেই এ মামলার রায় প্রদানের সম্ভাবনা রয়েছে।
আরশাদ মাদানিকে উদ্ধৃত করে পিটিআই বলেছে, ‘প্রত্যেক বিচার-প্রেমী মানুষই চান- কঠোর তথ্য ও প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই মামলার রায় দেওয়া হোক, কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে নয়।’
তিনি বলেন, ‘আদালতের যুক্তি-তর্ক শেষ হয়েছে। এখন আমরা রায়ের অপেক্ষা করছি। আমাদের আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান তথ্যের ওপর ভিত্তি করে খুবই জোর যুক্তি-তর্ক তুলে ধরেছেন। আমাদের বিশ্বাস, রায় আমাদের পক্ষেই যাবে।’
জমিয়ত প্রধান বলেন, ‘দেশ আমাদের, আইন আমাদের এবং সুপ্রিম কোর্ট আমাদের। আমরা প্রমাণ দিয়েছি। রায় যাই হোক না কেন, আমরা তাকে সম্মান জানাব।’
একদিন আগে দিল্লিতে মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ-আরএসএস প্রতিনিধিরা। এতে রায় ঘিরে পরিস্থিতি শান্ত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।
কিছু হিন্দুত্ববাদীর দাবি, এই মসজিদের জায়গায় রামের জন্মস্থান বলে পরিচিত একটি প্রাচীন মন্দির ছিল। সেই মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের ওপরই নির্মিত হয়েছিল মসজিদটি।
অযোধ্যায় শতাব্দী প্রাচীন বাবরি মসজিদটি ১৯৯২ সালে ভেঙে দেওয়া হয়। এনিয়ে ভারতে রীতিমতো দাঙ্গা শুরু হয়। এতে মারা যায় প্রায় দুই হাজার মানুষ।