শেরপুরে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা

শেরপুর জেলা সদরের ইউনাইটেড হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে মামলা হয়েছে। বুধবার রাতে দুই ডাক্তারসহ চারজন ও অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নবজাতকের বাবা পনির। মামলার এজাহারনামীয়রা হলেন- ডা. হাসিনাতুল ফেরদৌস লোপা’র স্বামী মিলন (১ নং), ওই হাসপাতালের ডাক্তার জসিম উদ্দিন (২নং), ওই হাসপাতালের মালিক দিদার (৩নং) ও ডা. মুসলিমা আক্তার মৌসুমী (৪ নং) আসামি করা হয়েছে।

মামলার নথিতে জানা যায়, শহরের খোয়ারপাড় মহল্লার শাহিনুর রহমান পনিরের স্ত্রী তানিয়ার সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর থেকেই শহরের পারভিন ক্লিনিক বর্তমানে ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হাসিনাতুল ফেরদৌস লোপা’র তত্ত্বাবধানে থাকে।

৪ নভেম্বর সোমবার সকালে তানিয়া ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করান।

কিন্তু ডা. হাসিনাতুল ফেরদৌস লোপা’র কাছে পরামর্শ করতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে চিকিৎসকের স্বামী মিলন ফোন রিসিভ করে বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন।

এক পর্যায়ে তার মালিকানাধীন ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির কথা বললে রাত সাড়ে আটটার দিকে তানিয়াকে সেখানে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু গর্ভের সন্তান ক্ষতির শঙ্কা দেখিয়ে বার বার নিষেধ সত্বেও রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিলনের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ডা. মুসলিমা আক্তার মৌসুমী রোগী তানিয়াকে অস্ত্রোপচার করলে তার গর্ভের সন্তান মারা যায়। পরে কৌশলে হাসপাতালের চিকিৎসক ও সকল নার্স পালিয়ে যায়। পরে তানিয়ার অবস্থা খারাপের দিকে গেলে তাকে স্বজনরা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। 

এদিকে, এ ঘটনার তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন। কমিটিতে প্রধান করা হয় গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. লুৎফর রহমান। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট ও ওই হাসপাতালের আইনগত বৈধতা আছে কিনা তা পরীক্ষা করে রির্পোট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম মো. আনোয়ারুল রউফ বলেন, তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বুধবার মামলা দায়েরের পর আসামি ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।