দেশ রূপান্তরে খবর হওয়ার পর বেরোবিতে ফল প্রকাশ

অবশেষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের ১ম ব্যাচের স্নাতকোত্তরের (মাস্টার্স) ফল প্রকাশ হয়েছে। 

দেশ রূপান্তর অনলাইনে ২৮ অক্টোবর ''বেরোবিতে ‘শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে’ ৮ মাসেও প্রকাশ হয়নি স্নাতকোত্তরের ফল'' শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষকদের সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেন এবং বিভাগের শিক্ষকদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

প্রতিবেদন প্রকাশের আট দিনের মাথায় ফলাফল প্রকাশ করে বিভাগটি।

এর আগে লোকপ্রশাসন বিভাগের স্নাতকোত্তর ২য় সেমিস্টারের ফলাফল প্রশাসনিক ভবনে জমা দেওয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ২৮ অক্টোবর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ফিরোজুল ইসলাম জানান, ওইদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত স্নাতকোত্তর ২য় সেমিস্টারের কোনো ফলাফল জমা দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য উক্ত ব্যাচের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্সের) ২য় সেমিস্টারের পরীক্ষা শুরু হয় চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি এবং পরীক্ষা শেষ হয় ১০ মার্চ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার আট সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও লোকপ্রশাসন বিভাগ এ নীতির কোন তোয়াক্কা করেনি।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল লোকপ্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জুবায়ের ইবনে তাহের ও একই বিভাগের প্রভাষক সামান্থা তামরিন একে-অন্যের বিরুদ্ধে হুমকি ও অপমানের লিখিত অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষকরা কার্যত দুটি পক্ষে বিভক্ত। একদিকে রয়েছেন বিভাগীয় প্রধান জুবায়ের ইবনে তাহেরের নেতৃত্বে বিভাগের অন্য দুই শিক্ষক মাশরেকি মুসতারি ও মুজাহিদুল ইসলাম। অন্য গ্রুপে রয়েছেন, বিভাগের অপর তিন শিক্ষক সাব্বির আহমেদ চৌধুরী, আসাদুজ্জামান আসাদ ও সামান্তা তামরিন। বিভাগীয় প্রধানকে বিভিন্ন কাজে অন্য তিন শিক্ষকের অসহযোগিতার কারণেই ফল প্রকাশসহ বিভিন্ন সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক নূর আলম সিদ্দিক জানান, শিক্ষকদের এমন রাজনীতি করা উচিত নয় যেটা শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর। শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করা।