তাড়া করে ফিরছে ছাত্রলীগ আতঙ্ক

এসএসসি পাস করে মাত্রই রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হলেও দাপট দেখে বোঝার উপায় নেই তারা বয়সে ছোট। ছাত্ররাজনীতি তাদের অনেককেই বেপরোয়া করে তুলেছে। ছাত্রলীগের এমনই বিপথগামী একটি দল সম্প্রতি অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদকে টেনেহিঁচড়ে পুকুরে ফেলে দেয়। এ ঘটনার পর ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নানা অপকর্ম বেরিয়ে আসছে।

ইতিমধ্যে অধ্যক্ষকে হেনস্তার পর শাখা ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। মামলায় অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানীয়রা গা ঢাকা দিলেও এখনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাড়া করে ফিরছে আতঙ্ক। তারা সরাসরি মুখ খুলতে চাচ্ছেন না। বলছেন, এখন গা ঢাকা দিলেও, সুযোগ বুঝে ঠিকই তারা ফিরে আসবে।

গত বুধবার রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা জানান, ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদি হাসান রিগেন ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুর রহমানের নেতৃত্বে লেখাপড়া শেষ হলেও, ক্যাম্পাসে থেকে একদল নেতাকর্মী বেপরোয়া আচরণ করত। তাদের সহযোগী ছিল পার্শ্ববর্তী এলাকার বহিরাগতরা। ভর্তি, পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়া, হলে নকল সরবরাহসহ নানা খাতে চাঁদাবাজি করে ছাত্রলীগের নেতারা। তাদের কথা না শুনলে নির্যাতন করা হয়। মুখ খুললে বেড়ে যায় নির্যাতন। ছাত্রলীগের কাছে এক প্রকার জিম্মি ইনস্টিটিউট প্রশাসন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, গত ডিসেম্বরে একটি সেমিস্টারে ২ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬০০ জন ফেল করে। এদের মধ্যে ৫৪৭ জন থেকে টাকা নিয়ে ছাত্রলীগের নেতারা পাস করিয়ে দিতে অধ্যক্ষের কাছে তালিকা দেন। অধ্যক্ষ রাজি না হলে, সেখানেই বাদানুবাদ হয়। পরে জানা যায়, পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য ৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের থেকে চাঁদা আদায় করে। ছাত্রলীগের নেতারা প্রত্যেক পরীক্ষায় ৫০০ টাকার বিনিময়ে নকল সরবরাহ করে। তাদের কথা না শুনলে, পরীক্ষা হলেই লাঞ্ছিত করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষক বলেন, ‘পরীক্ষার হলে ছাত্রলীগের তালিকার ছেলেমেয়েকে অনৈতিক সুবিধা না দিলে যাচ্ছেতাই গালাগাল করে। পরিবারের সদস্যদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। সম্মানের কথা ভেবে সবকিছু মেনে নিতে হয়।’ কয়েক কর্মচারী জানান, এখানে ছাত্রলীগের হুকুমেই সব চলে। একটু এদিক-সেদিক হলেই নির্যাতন করা হয়। ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক ভবনের ছাত্রদের কমন রুমের পাশের তালাবদ্ধ ১১১৯ নম্বর কক্ষটি ছাত্রলীগ নেতারা টর্চারসেল হিসেবে ব্যবহার করত। সেখান থেকে নির্যাতনের অনেক সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। শিক্ষকরা জানলেও কিছু করতে পারেননি।

অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হয়ে মৌখিকভাবে জানালেও ভয়ে লিখিত দেননি। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।’