নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করায় গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের খুচরা বাজারের ছয় প্রতিষ্ঠানকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পণ্যটির বাজারদর নিয়ন্ত্রণে নগরীর পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে চার দিন অভিযানের পর খুচরা বাজারেও নেমেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল সকালে নগরীর কাজির দেউড়ি ও কর্ণফুলী বাজারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল, ভোক্তা অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফোরকান এলাহী এর নেতৃত্ব দেন। অভিযানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সেলিম, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী এবং র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযানে প্রশাসন নির্ধারিত মূল্য তালিকার অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রির অপরাধে কাজির দেউড়ির ইলিয়াস স্টোরকে ৫ হাজার, ভাই ভাই ডিপার্টমেন্টাল স্টোরকে ৫ হাজার, কর্ণফুলী মার্কেটের মেসার্স জালাল স্টোরকে ৫ হাজার, মেসার্স মক্কা স্টোরকে ৫ হাজার, ২ নম্বর গেটের মাবিয়া স্টোরকে ৫০ হাজার ও হক মার্কেটের মা-বাবা স্টোরকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফোরকান এলাহী বলেন, খুচরা বাজারে কিছু দোকানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৩০-১৪০ টাকা বিক্রি করছে প্রমাণ মেলায় তাদের জরিমানা করা হয়েছে। কারণ পেঁয়াজের মূল্য ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হলেও অনেকে সেটা মানছে না।
তাই অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, মাবিয়া স্টোর নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ৪০ টাকা বেশি ১৪০ টাকা দামে বিক্রি করছে। এ ছাড়া একই দোকানে সেমাইয়ের ওপর ইঁদুরের বিষ্ঠা ছিল দীর্ঘদিন ধরে ও সেমাইগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। এসব কারণে তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে হামিদুল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. ইদ্রিচ জানান, মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজবোঝাই ২২টি ট্রাক খাতুনগঞ্জে এসেছে। প্রতি ট্রাকে প্রায় ১৪ টন করে পেঁয়াজ রয়েছে।
বর্তমানে পাইকারি বাজারে মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মান ভালো ও বড় আকারের পেঁয়াজ ৯০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মিসরের পেঁয়াজ পাইকারিতে ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম আরও কমবে। তারা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যে অঙ্গীকার করছে সেই লক্ষ্যে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।