ঘূর্ণিঝড় বুলবুল: সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছে দেড় হাজার পর্যটক

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ প্রভাবে সমুদ্র উত্তালে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে দেড় হাজার পর্যটক আটকা পড়েছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে এক হাজারের বেশি পর্যটক টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে যেতেও পারেনি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের সমন্বয় কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র কারণে কক্সবাজারসহ দেশের সমুদ্রবন্দরসমুহে সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। এ কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

আরও জানান, দ্বীপে বেড়াতে এসে আটকা পড়া পর্যটকেরা নিরাপদে রয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা হবে। এই রুটে তিনটি জাহাজ চলাচল করে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে আড়াই হাজারের মতো পর্যটক সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে যায়। প্রায় ১২শ’ পর্যটক রাতে দ্বীপে অবস্থান করে। এর আগের কয়েক দিনে যাওয়া আরও ৩ শতাধিক পর্যটক দ্বীপে অবস্থান করছিলেন।

শুক্রবার সকালেও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকেরা এসে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাটে ভিড় করলেও জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় এক হাজারের বেশি পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে পারেনি।

শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫২৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড় ও মুন ফেজের (চন্দ্রকলা) প্রভাবে উপকূলীয় জেলা ও নিকটবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সুন্দরবনের দুবলার চরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুবলার চর রাস উৎসব জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।