সংবাদ সম্মেলন শেষ করে রাসেল ডমিঙ্গো পা রাখেন নেটে। সেখানে তখন আর মাহমুদউল্লাহর টি-টোয়েন্টি দল নেই। পরের দিন ভারতের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচ। অনুশীলনও শেষ। তাদের খালি করে যাওয়া নেটে টেস্টের জন্য আগের রাতে নাগপুরে পা রাখা নতুন অধিনায়ক মুমিনুল হকের নেতৃত্বে ৮ খেলোয়াড়। কোচিং স্টাফরা তখন তাদের নিয়ে ব্যস্ত। ইন্দোরে আসছে বৃহস্পতিবার শুরু প্রথম টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দলের একাংশের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল নাগপুরে।
তার আগে চেয়ার ছেড়ে যখন উঠে এলেন কোচ, তখন একজন ছুড়ে দেন প্রশ্নটা–‘এখানে প্রস্তুতি ম্যাচের দরকার ছিল বলে মনে করেন?’ বাংলাদেশের হেড কোচের ত্বরিত জবাব–‘অবশ্যই, থাকলে খুব ভালো হতো।’
প্রথমে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ, এরপর সিরিজ দুই টেস্টের। আজই টেস্ট আঙিনায় ১৯ বছর পূরণ করে টিনএজ পেরিয়ে কুড়িতে পা রাখছে বাংলাদেশের টেস্ট। কিন্তু প্রায় দুই দশকের মধ্যে এই প্রথম ভারতের মাটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলার সুযোগ মিলেছে। আর সেই সিরিজে প্রথমে সাদা বল, এরপর লাল বল এবং সবশেষে ইডেন টেস্টে প্রথমবার টেস্ট খেলা গোলাপি বলে। অথচ একটা প্র্যাকটিস ম্যাচও নেই।
প্রাথমিক সূচিতে গোলাপি বলের টেস্ট ছিল না। সৌরভ গাঙ্গুলি গেল মাসে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বিরাট কোহলি ও তার দলকে রাজি করে ফেললেন। ভারত ও বাংলাদেশ এই প্রথম তাই রাতের কৃত্রিম আলোতে পাঁচ দিনের ম্যাচ খেলতে নামছে। সাদা-লাল বলে খেলার অভিজ্ঞতা ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের। কিন্তু বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা এখনো ঠিক জানেন না গোলাপি বলে কী অভিজ্ঞতা সামনে অপেক্ষায়। প্রশ্ন হলো, গোলাপি বলে খেলা না হয় পরে নির্ধারিত হয়েছে। লাল বলের প্রথম টেস্টের আগে একটা অন্তত প্র্যাকটিস ম্যাচ থাকতে পারত না?
২২ নভেম্বর কলকাতার গোলাপি টেস্টের আগে এই বলে খেলা নিয়ে কৌতূহল ও আলোচনাটা থাকবেই। পেসার ইবাদত হোসেন গতকাল নাগপুরের বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে বলছিলেন, ‘প্রথম টেস্ট শেষ হলে তারপর গোলাপি বল নিয়ে ভাবব। দুটো নিয়ে একসঙ্গে ভাবতে গিয়ে তালগোল পাকাতে চাই না।’
মুমিনুল, ইমরুল কায়েস, মেহেদী হাসান মিরাজ, আবু জায়েদ রাহী, ইবাদত হোসেন, সাইফ হাসান, নাঈম হাসান, সাদমান ইসলাম শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছিলেন নাগপুরের উদ্দেশে। মাঝে কলকাতায় কেটেছে ৬ ঘণ্টা। ক্লান্তিকর সফর শেষ হয়েছে রাত ৯টায় তৃতীয় টি-টোয়েন্টির শহরে পা রেখে। এমন সফর বড্ড বিরক্ত করেছে ক্রিকেটারদের।
কিন্তু ঘুরে-ফিরে আসে গোলাপি বলের কথা। টেস্ট খেলতে দলে ফেরা ইমরুল জানালেন, ‘নতুন বলে সুইং খুব। কিন্তু আমাদের যে বল দেওয়া হয়েছিল সেটার সিম ছিল সাদা। একদিন মাত্র গোলাপি বলে প্র্যাকটিস করেছি। কিন্তু মনে হয়েছে সিম কালো হলে বল দেখতে সুবিধা হতো।’
প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর ধারণা আবার উল্টো। ‘গোলাপি বলের মাঝে সিম কালো হলে বল হঠাৎ করে চোখের সামনে থেকে হারিয়ে যায়।’ নাগপুরের স্টেডিয়ামে নান্নু কথায় কথায় বলছিলেন, ‘উমেশ যাদব-(মোহাম্মদ) শামিদের বল যখন ১৪৫ কিলোমিটার/ঘণ্টায় আসবে তখন সিমের কারণে দেখতে সমস্যা হওয়ার কথা।’
আসলে ২০১৫ থেকে এখন পর্যন্ত গোলাপি বলের বা দিবারাত্রির টেস্ট হয়েছে মোটে ১৪ টা। যারা খেলেছেন এখনো এই বলের খেলা তাদের কাছেও অমীমাংসিত রহস্য। বাংলাদেশি খেলোয়াড় বা সংশ্লিষ্টরা তাহলে রাতারাতি সব জেনে যাবেন কীভাবে!