পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) সিএসই অনুষদের স্বতন্ত্র ইউনিটসহ ৯ দফা দাবিতে চলমান ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠেছে ক্যাম্পাস। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকি ভবনে তালা ঝুলিয়ে প্রধান গেটে অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশ করায় উপাচার্য-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বতন্ত্র ইউনিট চালু, পবিপ্রবি’র নামের যথার্থতা রক্ষায় ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের আওতাধীন রেখে সিএসই এর সাথে ইসিই, ইইই, এমই ডিপার্টমেন্ট চালুসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে সিএসই অনুষদের সকল সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে অবস্থান কর্মসসূচি শুরু করেন।
সমাবেশের এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান গেট তালাবদ্ধ করে দেয়। এতে রেজিস্ট্রারারসহ প্রশাসনিক ভবনের সকল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
একই সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান গেটগুলো তালাবদ্ধ করে দেওয়ায় পুরো ক্যাম্পাসই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
সমাবেশে বক্তৃতা করেন আবদুল্লাহ মো. নাঈম, ইসরাক বিশাল, মো. ইমরান খান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সিএসই অনুষদের স্বতন্ত্র ইউনিট হিসেবে স্বীকৃতি, ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ন্যূনতম ফল ৮.০০, ভর্তি পরীক্ষায় সম্পূর্ণ বিবরণসহ নম্বর প্রকাশ, নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় খোলা, ক্লাসরুম, শিক্ষক ও ল্যাব সংকট দূর করাসহ একাডেমিক সকল কার্যক্রম অটোমেশন করতে হবে।
কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ নাঈম বলেন, আমরা যৌক্তিক দাবি নিয়েই আন্দোলনে এসেছি। আমাদের দাবি মানা না হলে সকল ধরনের ক্লাস পরীক্ষা বর্জনসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এর আগে গত ৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবরে উল্লেখিত ৯ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো অযৌক্তিক। এই দাবি মানার প্রশ্নই আসে না। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির আলোকেই চলতি সেশনের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে কর্তৃপক্ষ অনড়।
সিএসই ও আইন অনুষদের একই ইউনিটে পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু আইনের সাথে ভূমি প্রশাসন আছে সেজন্য একই ইউনিটে পরীক্ষা হবে। আলাদা ইউনিটে পরীক্ষা নিতে হলে আগামী বছর থেকে নিতে হবে এ বছর হবে না।