টেস্ট শুরুর আগে ভারতীয় স্পিনারদের নিয়ে বেশ সতর্ক বাংলাদেশ। মঙ্গলবার টাইগারদের অনুশীলন দেখেই সেটা বোঝা গেছে।
ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি এদিন সকালে মুশফিক-রিয়াদসহ দলের সেরা ব্যাটসম্যানদের নিয়ে নেট ও নেটের বাইরে কাজ করেছেন। ইমরুল-মুমিনুলরাও মনোযোগী শিক্ষার্থীর মতো ম্যাকেঞ্জির পথে হেঁটেছেন।
গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিজেদের মাঠে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে বিরাট কোহলির দল। ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ। প্রথমটি বিশাল রানের ব্যবধানে, পরের দুটিতে ইনিংস ব্যবধানে জয়। নিজেরা হারিয়েছিল মাত্র ২৫ উইকেট। সেখানে অশ্বিন-জাদেজার মতো স্পিনাররা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন শিকারে।
অশ্বিন ১৫ আর জাদেজা ১৩ উইকেট নেন ওই সিরিজে। কিন্তু বাংলাদেশ দলের ভাবনায় আছে হলকারের ইতিহাসও।
এই মাঠে এখন পর্যন্ত একটাই টেস্ট খেলেছে ভারত। ২০১৬ সালে। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল ৩২১ রানে। অফস্পিনার অশ্বিন দুই ইনিংসে ১৩ উইকেট (৬ ও ৭) নিয়ে হয়েছিলেন ম্যাচের সেরা। দুটি করে উইকেট ছিল বাঁহাতি স্পিনার জাদেজার। মানে কিউইদের ২০ উইকেটের ১৭টি ছিল স্পিনার জুটির।
বাংলাদেশের চিন্তাটা এখানেই। সেই চিন্তা দূর করতে ম্যাকেঞ্জিকে সংক্ষিপ্ত পরিসরের ক্রিকেট থেকে টেস্টেও কাজ করতে আনা হয়েছে।
এদিন প্রথমে ননস্ট্রাইক প্রান্তে দাঁড়িয়ে মুশফিকুর রহিমকে স্পিনারদের করা বল ভিডিও করেন। অন্যদিকে কিংবদন্তি ভেট্টোরির পরামর্শে তাইজুল-মিরাজ-নাঈমরা নিজেদের ঝালিয়ে নেন।
কিছুক্ষণের মধ্যে মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে মুশফিকের পাশে যান ম্যাকেঞ্জি। অনেকক্ষণ ধরে বোঝান দুজনকে।
শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ভেট্টোরির সহায়তা নিয়ে ম্যাকেঞ্জির কাজ চোখ কেড়েছে প্রতিপক্ষ দলের মিডিয়ারও। সংবাদ সম্মেলনে আসা মোহাম্মদ মিঠুনকে ভারতীয় এক সাংবাদিক তো প্রশ্ন করে বসলেন, ‘অশ্বিন-জাদেজাদের সামলানোর কী কৌশল বাতলালেন ম্যাকেঞ্জি?’
পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সেই রহস্য উন্মোচন করা যায় না। মিঠুন তাই হাসেন, ‘এটা টেকনিক্যাল ব্যাপার, দলের ভেতরে থাকাই ভালো। সবাইকে বলার মতো বিষয় নয়। এটা টিম প্ল্যানের মধ্যেই পড়ে।’