বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশকে কাল খেলতে হবে ১০০ ধাপ এগিয়ে থাকা ভীষণ শক্তিশালী ওমানের বিপক্ষে। সেটাও আবার তাদের মাঠে। অথচ কী আশ্চর্য, এ নিয়ে মোটেই শঙ্কা নেই বাংলাদেশের ফুটবলারদের মধ্যে। আগের তিন ম্যাচ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া আত্মবিশ্বাস জামালা ভুইয়া, আশরাফুল ইসলাম রানা, সাদ উদ্দিনদের যেন নির্ভীক যোদ্ধায় পাল্টে দিয়েছে। তারা এখন বুক চিতিয়ে লড়তে প্রস্তুত। কাতার, ভারতের মতো ওমানকেও ছেড়ে কথা বলবে না বাংলাদেশ।
আগের দিন মাঠের পাঠ ছিল না জেমি ডের শিষ্যদের। তবে গতকাল দু’বেলা ঠিকই গা গরম করিয়েছেন শিষ্যদের। এর মধ্যেই ওমানের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে নিয়ে ইংলিশ কোচ সাজিয়ে ফেলেছেন রণকৌশল। যে কৌশলে অন্যতম যোদ্ধা হয়ে মাঠে থাকবেন দলের এক নম্বর গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা। শক্তিতে এগিয়ে থাকা ওমানের সিরিজ আক্রমণ ঠেকানোর গুরু ভার তার ওপর। এই ওমান ভারতকে হারিয়েছে পিছিয়ে থেকে। আফগানিস্তানকে গুনে গুনে দিয়েছে ৩ গোল। কাতারের কাছে হারলেও জোর লড়াই করেছে। এদের ঠেকানো যাবে তো? রানা উত্তরটা দিলেন ঘুরিয়ে, ‘গ্রুপের অন্য ম্যাচে যা যা হয়েছে সেগুলো আসলে একেবারেই গুরুত্বহীন। ওমান ভারতকে হারিয়েছে, আবার কাতারের কাছে হেরেছে। আফগানিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে। অন্য ম্যাচের রেজাল্ট আসলে কোনো গুরুত্ব বহন করে না। গুরুত্ব বহন করে নির্দিষ্ট দিনে আপনি কেমন খেলছেন। যে ভালো খেলবে, দিন শেষে তার পক্ষেই রেজাল্ট যাবে। কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি খেলতে পারি, আমি বলতে পারি ওমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটা ম্যাচ আমরা খেলব।’
ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচে গোল করেছিলেন সাদ উদ্দিন। ওমানের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তিনিসহ তার দল সেখানে রয়েছে আট দিন ধরে। এ সময় ওমানের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন সাদ, ‘আগে আসার কারণে আবহাওয়ার সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছি। সবাই ফিট আছে। সবাই ভালো আছি। আশা করছি শেষ ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও ইতিবাচক একটা রেজাল্ট পাব। চেষ্টা করব এই ম্যাচেও গোল করার জন্য। ভালো পারফরম্যান্স করার জন্য।’
দলের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু অবশ্য বলেই দিয়েছেন ওমানের বিপক্ষে কাজটা সহজ হবে না। নিজে ছিলেন জাতীয় দলের নিয়মিত ফুটবলার। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই রুপু বললেন, ‘মাঠে আমাদের কী অ্যাপ্রোচ হবে, সেটা ইতিমধ্যে কোচ খেলোয়াড়দের বুঝিয়ে দিয়েছেন ভালোভাবে। মূল কথা হলো, শুরুতে গোল খাওয়া যাবে না। গোল না খেয়ে খেলা চালিয়ে যেতে পারলে খেলোয়াড়দের মধ্যে আস্তে আস্তে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার হবে। ওমান আমাদের চেয়ে এগিয়ে থাকা দল। তাদের সঙ্গে অ্যাটাকিং ফুটবল খেলা আত্মহত্যার শামিল। ওদেরকে সামলেই আমাদের খেলতে হবে।’