নতুন চাকরি স্বাভাবিকভাবেই একটি উত্তেজনা তৈরি করে। কারণ নতুন কর্মস্থল, নতুন পরিবেশের সঙ্গে পরিচয়, নতুন কাজ সেই সঙ্গে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয় এতে।
কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, নতুন চাকরিতে যেতে চান না। মানে বর্তমান চাকরি ছাড়তে তাদের অনীহা কাজ করে। এ ক্ষেত্রে কিছুটা ভীতিও কাজ করে তাদের মধ্যে।
ক্যারিয়ার বিষয়ক ওয়েবসাইট মোনস্টার ডটকম জানায়, ২০১৮ সালের একটি জরিপে দেখা গিয়েছে যে, ৩৮ শতাংশ মার্কিন চাকরিজীবীর মধ্যে নতুন চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিতে ভীতি কাজ করে।
বর্তমান চাকরির প্রতি অভ্যস্ততার কারণে সহজে নতুন চাকরির দিকে আগ্রহ প্রকাশ পায় না অনেকের মধ্যে। আসুন দেখে নিই, কী কী কারণে এমন অনীহা কাজ করে চাকরিজীবীদের মধ্যে।
১. অনেকেই মনে করেন চাকরি ছেড়ে গেলে সহকর্মীদের কী অবস্থা হবে। তাকে ছাড়া কীভাবে চলবে তাদের। প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্য বা কাজের প্রতি বিশ্বস্ততার কারণে এমন অনুভূতি হয়ে থাকে। যেটি একজন চাকরিজীবীর জন্য খুবই ইতিবাচক। কিন্তু এ রকম বিবেচনা করলে আপনার ক্যারিয়ার ক্ষতির মুখে পড়বে। কর্মজীবনে সফলতা পেতে আপনাকে নতুন চাকরিতে যোগ দিতে হতে পারে, অতএব সেই সুযোগ ছেড়ে দেওয়া উচিত হবে না।
২. ডেনভার ভিত্তিক ক্যারিয়ার বিষয়ক পরামর্শক লেইলা হকের মতে, অনেকেই নতুন চাকরি যেতে চান না কারণ বর্তমানের চাকরির সঙ্গেই নিজের পরিচয় জড়িয়ে ফেলেন। প্রতিষ্ঠানকে নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভেতরে ধারণ করেন তারা। কোম্পানির সবকিছুর সঙ্গে নিজেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ফেলেন তারা। যদিও এ রকম চিন্তা করাটা কোনোভাবে উচিত নয়। কারণ প্রতিষ্ঠানে তার প্রয়োজন অনুসারে যোগ্য কর্মী গড়ে তোলে।
৩. অনেকের মধ্যে শঙ্কা কাজ করে যে, নতুন চাকরি ভালো নাও লাগতে পারে তাদের। কেমন হবে নতুন পরিবেশ, নতুন কাজ ও নতুন সহকর্মী, এমন দুশ্চিন্তায় অনেকেই চাকরি ছাড়তে চান না। তবে ক্যারিয়ারের জন্য চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। নতুন কাজে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা ক্যারিয়ারে সফলতার জন্য জরুরি।
৪. অনেকে মনে করেন, নতুন চাকরি বা কাজে যোগদান করলে নিজের সীমাবদ্ধতা বা ঘাটতি প্রকাশ হয়ে পড়বে। আবার যথেষ্ট যোগ্যতার অভাব থাকা সত্ত্বেও বর্তমান চাকরিতে কোনো না কোনোভাবে স্থায়ী হয়ে গিয়েছেন, ফলে এই স্থান তিনি হারাতে চান না।
৫. কেউ আছেন চাকরি ছাড়তে চান না, তারা মনে করেন নতুন চাকরির জন্য যোগ্য নন তারা। মূলত, তারা চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় পান। আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভোগেন তারা। এখন ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে নিজের যোগ্যতার ওপর আস্থা রাখতে হবে। নিজেকে আরও বেশি শাণিত করতে হবে এবং প্রস্তুতি নিতে হবে।