দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সব ধরনের দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার জাতীয় সংসদে একাধিক সঙসদ সদস্যর প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যাসিনো ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমাজের সব স্তরে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এসব কাজের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

দেড় মাস শুরু হওয়া দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চলতি মাসে কিছুটা ভাটা পড়ার প্রেক্ষাপটে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান অভিযান চলবে কি না?

উত্তরে সংসদ নেতা বলেন, ‘মাদক, সন্ত্রাস, ক্যাসিনো, দুর্নীতিসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা, উপজেলা ও পৌরসভাসহ সব পর্যায়ে সরকারের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ থেকে কারা সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো খেলেছে, তাদের তথ্য চেয়ে সে দেশের সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে’।

জাতীয় পার্টির সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, ‘গত ১০ বছরে দুর্নীতি দমন কমিশন ১৩ হাজার ২৩৮টি অভিযোগের অনুসন্ধান, ৩ হাজার ৬১৭টি মামলা দায়ের এবং ৫ হাজার ১৭৯টি চার্জশিট দাখিল করেছে।’

জাতীয় পার্টির আরেক সাংসদ মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। রাজনৈতিক ব্যক্তি ছাড়াও সরকারি কর্মচারীসহ অন্য যেসব ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’।

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দফতরে চিঠি দিয়েছে। এ ছাড়া কারা কারা অভিজাত গাড়ি কিনেছেন, তদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে’।

জাতীয় পার্টির অপর সাংসদ বেগম রওশন আরা মান্নানের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দলমত নির্বিশেষে সব ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তর থেকে অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

জাতীয় পার্টির আরেক সাংসদ সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার প্রশ্নের জবাবেও একই উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’