কালীগঞ্জের বৈরাতি দাখিল মাদ্রাসা থেকে এ বছর ২২ জন শিক্ষার্থী জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষা শুরুর দিনই অনুপস্থিত ছিল ৬ জন। গতকাল বুধবার পর্যন্ত অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেমে আসে ১২ জনে। অভিযোগ উঠেছে, এসব পরীক্ষার্থীর সবাই ভুয়া। ইতিমধ্যে দুই পরীক্ষার্থীকে ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, ২ নভেম্বর সারা দেশে জেডিসি পরীক্ষা শুরু হলে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বৈরাতি দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে। উপজেলার কাকিনাহাট মোস্তাফিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর দিনেই ওই মাদ্রাসার ছয়জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকে।
বাকি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে এলে পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তার চোখে শিক্ষার্থীদের অনেকের বয়সের বিষয়টি তার দৃষ্টিতে ধরা পড়ে। এরপর তিনি জানতে পারেন প্রতিষ্ঠানটির হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনেকেই বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ থেকে আসা ছাত্রছাত্রী। এদের মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলার বাবর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী সিতুলী বেগমও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। জেডিসি পরীক্ষায় তার রোল নং-২৩৮৭৮৪। আরেক ছাত্রী আফসিন খাতুন করিমউদ্দিন পাবলিক ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০১৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৩.৪৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনিও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। আফসিন খাতুনের রোল নং-২৩৮৭৮৬। অন্যান্য পরীক্ষার্থী বিষয়টি অঁাচ করতে পারায় ওই দুই শিক্ষার্থীসহ আরও চার পরীক্ষার্থী বাকি পরীক্ষাগুলোতে আর আসেনি।
অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, পুরো ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত আছেন মাদ্রাসার সুপার ফাতেমা বেগম ও তার স্বামী আবুল কাশেম। ১৯৯৭ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করে এখন পর্যন্ত ১৭ জন শিক্ষককে নিয়োগ দিয়েছেন তারা। আর ওই শিক্ষকদের প্রত্যেকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা।
গতকাল বুধবার সরেজমিন বৈরাতি এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আড়াই থেকে তিন বছর ধরে মাদ্রাসাটিতে তালা ঝুলছে। ভেতরে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় বখাটেরা জুয়ার আসরও বসায়।
ভুয়া পরীক্ষার্থী সিতুলী বেগমের মা সাদেকা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘মেয়েকে ৫০০ টাকা দিয়ে আবুল কাশেম পরীক্ষায় অংশ নিতে বলেন।’ কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসান বলেন, সঠিক কাগজপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।