আলোচনা সভায় ডাকসুর সাবেক-বর্তমান নেতারা

ছাত্ররাজনীতি নয়, ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী বাহিনী আখ্যা দিয়ে সংগঠনটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন নেতা। তারা বলেছেন, সাধারণ ছাত্রদের দাবিদাওয়া নিয়ে ক্যাম্পাসে সুস্থ ধারার রাজনীতির বিকল্প নেই। তবে বর্তমান ছাত্রলীগ সবার কাছে মূর্তমান আতঙ্কের নাম। যারা গুম-খুন আতঙ্কের রাজনীতি করে তাদের নিষিদ্ধ করতে হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ মহিলা বিজ্ঞানী সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন।

‘ছাত্ররাজনীতি : অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা আ স ম আবদুর রব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একজন সিভিল ডিক্টেটর (বেসামরিক স্বৈরচার) আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তার অধীনে সামগ্রিক রাজনীতিতেই পচন ধরেছে। ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখ রাতে ডাকাতি করে তিনি রাজনীতি থেকে স্নেহ, মমতা ভালোবাসা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা সব হত্যা করেছেন। ছাত্রলীগসহ নামে-বেনামে অসংখ্য লীগ ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে রক্তের রাজনীতিতে মেতে উঠেছে। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করতে হবে।

ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বুয়েট ছাত্র আবরার রাজনীতি না করেও ছাত্রলীগের নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। বিরোধী দলের লক্ষাধিক নেতাকর্মী মামলার ভয়ে বাড়িছাড়া। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের হাত থেকে শিক্ষক, সাংবাদিক, ছাত্রছাত্রী কেউই রক্ষা পাচ্ছে না। বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলো ক্যাম্পাসের দখল নিতে পারলে ওই দিন থেকে সরকারের মৃত্যুঘণ্টা বেজে যাবে।

ডাকসুর ভিপি নুরুল হক বলেন, পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়ায় ছাত্রলীগ এখন মূর্তমান আতঙ্কের নাম। তারা সন্ত্রাসী সংগঠন হয়ে গেছে। অচীরে এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করতে হবে। সাধারণ ছাত্রদের সমস্যা নিয়ে সুস্থ ধারার রাজনীতি করতে ছাত্রদের সুযোগ দিতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনীতিই আজ আইসিইউতে চলে গেছে। এ অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্যে শুধু ছাত্রদের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না জাতীয় রাজনীতিবিদদের সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সমিতির সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. শাহিদা রফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডাকসুর সাবেক জিএস ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।