জাবিতে ভিসিবিরোধী আন্দোলন ৮ দিন স্থগিত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে চলমান আন্দোলন বুধবার আট দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও হল খুলে দেওয়ার জন্য আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। এই সময়ে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ২২ নভেম্বর মহাসমাবেশ করবেন তারা।

বিকেলে কলা ও মানবিকী অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’-এর মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো ধরনের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে তা প্রতিহত করা হবে। গত ৫ নভেম্বর শািন্তপূর্ণ আন্দোলনে উপাচার্যের মদদে ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রীয় আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

হল খুলে দেওয়ার আল্টিমেটামের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে হল প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, হল খোলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমি মনে করি, যে পরিস্থিতির কারণে হল বন্ধ করা হয়েছে সে পরিস্থিতির যত দ্রুত উন্নতি হবে তত দ্রুত হল খুলে দেওয়া যাবে।

সংবাদ সম্মেলনের আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মুরাদ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদড়্গিণ করে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নজির আমিন জয় ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মাহাথির মুহাম্মদসহ সাতজনের বিরুদ্ধে উপাচার্যের কার্যালয়ে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ অভিযোগ এনে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন।

এর আগে ১ নভেম্বর এক সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলার অভিযোগ এনে অজ্ঞাতপরিচয় ৫০-৬০ জন আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।