বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হলেও ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরছেন না শিক্ষার্থীরা।
৬ অক্টোবর রাতে আবরারকে পিটিয়ে হত্যার পর থেকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে নিজেদের বিরত রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।
বুধবার আবরার হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।
চার্জশিট দাখিলের প্রতিক্রিয়ায় বুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিনটি দাবি মেনে নিলে তারা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে যাবেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বুয়েটের শহীদ মিনারের পাদদেশে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অনিরুদ্ধ গাঙ্গুলী।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত সময় দিয়ে একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে বুয়েটে একটি সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তারা সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চেয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের সদিচ্ছা এবং যথাযথ পদক্ষেপের অভাব দেখা গেছে।
যে তিনটি দাবি মানার পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েট শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন, সেগুলো হলো- মামলার অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কার, বুয়েটের আহসানউল্লাহ, তিতুমীর ও সোহরাওয়ার্দী হলে আগে ঘটে যাওয়া র্যাগিংয়ে ঘটনাগুলোয় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি, সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি এবং র্যাগিংয়ের জন্য সুস্পষ্টভাবে বিভিন্ন ক্যাটাগরি ভাগ করে শাস্তির নীতিমালা প্রণয়ন করার পর একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে অনুমোদন করে বুয়েটের অধ্যাদেশে সংযোজনের জন্য পরবর্তী ধাপগুলোয় পাঠানো।
সংবাদ সম্মেলনে অনিরুদ্ধ জানান, মাঠপর্যায়ের আন্দোলন শেষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করে বুয়েট প্রশাসন। সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক মিজানুর রহমান ও অনুষদগুলোর ডিনদের উপস্থিতিতে একটি সভা হয়।
শিক্ষার্থীরা কখন একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরবেন তা ছিল ওই আলোচনার প্রধান বিষয়। সভা শেষে শিক্ষার্থীরা লিখিতভাবে প্রশাসনকে ওই তিনটি দাবির কথা জানান। প্রথম দুটি দাবি পূরণ হলে আসন্ন টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার তারিখের বিষয়ে সম্মত এবং পরীক্ষা শুরু হওয়ার অন্তত সাত দিন আগে তৃতীয় দাবিটি পূরণ করা হলে পরীক্ষায় বসবেন বলে জানান তারা।
আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ২৫ জনকে আসামি করে বুধবার আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত এ মামলার ২৫ আসামির ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
তদন্ত শেষে পুলিশ বলেছে, আবরারকে হত্যায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন ১১ জন। তারাই আবরারকে কয়েক দফায় মারপিট করেন। বাকি ১৪ জন বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্নভাবে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে ইইই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।