প্রশ্নটা শুনে কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থাকেন। মুখে হাসি ফুটিয়ে বলেন, ‘এমন এমন প্রশ্নের মুখে আপনারা আমাকে ফেলে দিচ্ছেন যেগুলোর জবাব আমার জন্য দেওয়া উচিত না মনে হয়।’ রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে হোলকার স্টেডিয়ামে ভারত-বাংলাদেশ টেস্টের প্রথম দিনের শেষে প্রশ্ন ছিল, ‘আপনার কি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভারতীয় পেস আক্রমণের সামনে কিছুটা ভীত মনে হয়নি?’
ওই প্রতিক্রিয়ার পর ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটের বেশ একজন ভদ্রলোকের সন্ধান মেলে। ‘আমার মনে হয় না কেউ বা কোনো দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কারও বিপক্ষে খেলতে নেমে ভয় পায়। যদি আপনি ১০ কিংবা ১১ নম্বর ব্যাটসম্যানের কথা বুঝিয়ে থাকেন যারা স্টাম্প ছেড়ে খেলছিল তাহলে বলি, এমনটা অনেক ১০ ও ১১ নম্বরের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।’
দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথমটির প্রথম ইনিংসে ১৫০ রানে অল আউট হয়েছে মুমিনুল হকের বাংলাদেশ। দিনশেষে ৬৪ রানে পিছিয়ে মোটে ভারত। চমৎকার বোলিংয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন অফ স্পিনার অশ্বিন। মুমিনুলকে শিকার করে দেশের মাটিতে ২৫০ উইকেট শিকারের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন।
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যাপারে ওই প্রশ্নে শিষ্টাচারের চূড়ান্ত প্রকাশ দেখালেও একটা ব্যাপার রীতিমতো বিস্মিত করেছে অশ্বিনকে। শুধু অশ্বিনকে বললে ভুল হবে। সকালে অধিনায়ক হিসেবে অভিষিক্ত মুমিনুল টস জিতে ফাস্ট বোলারদের জন্য চমৎকার ট্র্যাকে ব্যাটিং বেছে নিলেন। তখন প্রতিক্রিয়ায় ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি বলেছিলেন, টস জিতলে ফিল্ডিং নিতেন। সেটাই পেয়েছেন।
৩৩ বছরের অল রাউন্ডার অশ্বিন টসের প্রসঙ্গ টেনে বলছিলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, টস জিতে তাদের ব্যাটিং নেওয়া ছিল সাহসী এক সিদ্ধান্ত। আমরা এমনটা আশা করিনি। বোলিং নেবে, এটাই আমরা ভেবেছিলাম।’ যদিও খুব কম রানে তারা প্রতিপক্ষের প্রথম ইনিংস গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তারপরও ৩৭ রান করা মুমিনুল ও ৪৩ রান করা মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিং ভালো লেগেছে অশ্বিনের, ‘সকালে তাদের কয়েকজন ব্যাটসম্যান বেশ ভালো ব্যাটও করেছে। প্রাণ আছে এমন উইকেটে শুরুতে ব্যাট করা সহজ ছিল না। একটু স্যাঁতসেঁতে ছিল। আমি মনে করি মুমিনুল হক এবং অন্যজন বেশ ভালো ব্যাট করেছে।’
৫ দিনের টেস্টের ভাগ্য প্রথম দিনে বলতে গেলে গড়ে ফেলেছে ভারত। বাংলাদেশ প্রতিরোধ গড়তে না পেরে শুরুতেই এভাবে হেরে বসাতে অবশ্য দোষের কিছু দেখেন না অশ্বিন, ‘আপনাকে একটা ব্যাপার বুঝতে হবে যে আমাদের দলটা টেস্ট ক্রিকেটে খুব অভিজ্ঞ। আমাদের একেকজনের টেস্ট খেলার গড়ই ৪০ থেকে ৫০। আর ওই দলে অনেক খেলোয়াড় এমন যারা অনভিজ্ঞ। জানি না তাদের সংখ্যাটা কেমন।’
নিজেরা বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল। আরও খেলা দেশের মাটিতে। বিদেশে তাদেরও খেলতে কষ্ট হয়। সব মিলে অশ্বিন ১৫০ রানে অল আউট হওয়াকে বাংলাদেশের ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে তাদের বোলারদের সাফল্য হিসেবে দেখতে চান, ‘আমার দিক দিয়ে ভাবলে আমি বলব, বাংলাদেশ সকালে বেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছে। শেষ পর্যন্ত আমাদের ধারাবাহিক ভালো বোলিংয়ের কাছে তাদের হার মানতে হয়েছে। আমি মনে করি তাদের ব্যাপারে কঠোর কথা না বলে ভারতীয় বোলারদের ভালো বোলিংয়ের কথা বলাই ভালো।’