ভিকারুননিসা নূন স্কুলে মেয়েকে আনতে গিয়ে ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই খুন হন গৃহবধূ সগিরা মোর্শেদ সালাম (৩৪)। দীর্ঘ ৩০ বছর পর এ খুনের রহস্য উন্মোচনের দাবি করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলেছে, গৃহস্থালি বিরোধের জেরে ধরে ভাশুর ও জা মিলে পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে দিয়ে সগিরাকে খুন করান।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার এসব তথ্য জানান। ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে তিনি জানান, সগিরা মেয়েকে আনতে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। পরে স্বামী আবদুস সালাম বাদী হয়ে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় ১৯৯০ সালে ছিনতাইকারী মিন্টু ওরফে মন্টুকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি। পরে সাক্ষীদের জেরায় মারুফ রেজা নামে এক ব্যক্তির নাম আসায় বাদী অধিকতর তদন্তের আবেদন করেন। কিন্তু মারুফ হাইকোর্টে রিভিশন মামলা করে মামলাটির কার্যক্রম ২৯ বছর স্থগিত রাখেন।
গত ১১ জুলাই হাইকোর্ট মামলাটি খারিজ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। এরপর তদন্তে গিয়ে পিবিআই গত ১০ নভেম্বর এ হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আনাছ মাহমুদ ওরফে রেজওয়ানকে (৫৯) রাজধানীর রামপুরা থেকে আটক করে। তার স্বীকারোক্তিতে নিহতের ভাশুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী (৭০) ও তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহিনের (৬৪) নাম আসে। পরে ধানমণ্ডি থেকে এ দম্পতি এবং বেইলি রোড থেকে মারুফ রেজাকে (৫৯) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে সগিরা মোর্শেদ হত্যায় সম্পৃক্ততা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। সগিরা হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ডা. হাসান আলী চৌধুরী ও তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা শাহিন। শাহিনের ভাই আনাছ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। আর মারুফ ছিলেন ভাড়াটে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে পড়াকালীন প্রেম করে ১৯৭৯ সালে সগিরা আবদুস সালামকে বিয়ে করেন। ১৯৮০ সালে ইরাকে গেলেও যুদ্ধের কারণে ১৯৮৪ সালে তারা দেশে ফিরে রাজারবাগের পৈতৃক বাড়ির দোতলায় বসবাস শুরু করেন। এ দম্পতির তিন মেয়ে আছে। সালামের বড় ভাই বারডেম হাসপাতালের ডা. হাসান চৌধুরী ১৯৮০ সালে শাহিনকে বিয়ে করে লিবিয়া যান। ১৯৮৫ সালে দেশে ফিরে তারাও একটি বাসায় ওঠেন। সেখানে গৃহস্থালির কারণে সগিরার সঙ্গে বিরোধ হয় শাহিনের। একপর্যায়ে উচ্চশিক্ষিত সগিরাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। নিজের জেদ বাস্তবায়নে শাহিন জাকে খুনের পরিকল্পনা করেন। স্বামীও তাতে সায় দেন। এরপর তৎকালীন সিদ্ধেশ্বরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী মারুফ রেজাকে ২৫ হাজার টাকায় ভাড়া করেন।
পিবিআই প্রধান বলেন, ঘটনার দিন সগিরা মোর্শেদের রিকশাকে মোটরসাইকেলে এসে ব্যারিকেড দেন মারুফ ও আনাস। ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে তাদের চিনে ফেলেন সগিরা। এতে তারা ভয় পেয়ে যান। এরপর মারুফ সগিরার পায়ে ও বুকে দুই রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যান।