প্রজাতিগত বিলুপ্তি পৃথিবীর ইতিহাসে নতুন কিছু নয়। তবে সামনে বড়সড় সর্বনাশ হতে চলেছে। বাস্তু সংস্থানের অতি প্রয়োজনীয় প্রত্যঙ্গ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি থেকে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণার বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, ইতিমধ্যে ৪১ ভাগ পোকা-মাকড় বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে খাদ্য শৃঙ্খলে।
যুক্তরাজ্যের ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্টের হয়ে প্রতিবেদনটি লেখেন ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সের জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ডেভ গৌলসন। তিনি জানান, বড় এই বিলুপ্তি নানা ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। কারণ চার-তৃতীয়াংশ ফসলের পরাগায়ন নির্ভর করে পোকামাকড়ের ওপর। এভাবে চলতে থাকলে স্ট্রবেরির মতো ফল টিকিয়ে রাখা যাবে না।
পোকামাকড় না থাকলে ৭৫০ কোটি মানুষের খাবার জোগান দেওয়ার সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সহজ কিছু পদক্ষেপ নিয়ে পোকামাকড়ের প্রাচুর্য ও বৈচিত্র্য রক্ষা করা যাবে। তবে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বন্যপ্রাণী বান্ধব কৃষি অব্যাহত রাখা। সে ক্ষেত্রে বিষের ব্যবহার অবশ্যই কমাতে হবে। এর সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়নও সম্পর্কিত।
চলতি বছরে শুরুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা জানান, বছরে ২.৫ ভাগ প্রত্যঙ্গ হারিয়ে যাচ্ছে। ৪০ ভাগের বেশি প্রত্যঙ্গ রয়েছে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত ২৫ বছরে ফ্রাঙ্কলিনের ভ্রমর বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অন্যদিকে ওহাইওতে প্রজাপতি তিন ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। ব্রিটেনে ১৯৬৮ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ২৮ ভাগ বড় মথের প্রাচুর্য কমেছে। প্রজাপতিও রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। তবে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাইরে বিলুপ্তি সম্পর্কিত অনেক তথ্য পাওয়া যায় না। শুধু আমাজন, কঙ্গো বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চিরহরিৎ বন নিধন থেকে সেখানকার বিলুপ্তি সম্পর্কে অনুমান করা যায়।
গৌলসনের মতে, পাখির সংখ্যা কমে যাওয়া থেকেও প্রত্যঙ্গ বিলুপ্তির তথ্য পাওয়া যায়। কারণ বেশির ক্ষেত্রে খাদ্যের জন্য পোকামাকড়ের ওপর নির্ভরশীল থাকে পাখি।
ইউরোপে প্রত্যঙ্গ বিলুপ্তি নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বাগান ও বাড়ির পেছনের আঙিনায় গাছ লাগিয়ে বিলুপ্তপ্রায় পোকাদের বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে। এর আওতায় ৪ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে। যা জাতীয় উদ্যানের চেয়েও বড়।