ইচ্ছের হলো জয়

একেবারেই শূন্য থেকে সফল, ইচ্ছেশক্তির গুণে বলীয়ান ও জীবনে সাফল্য পাওয়া মানুষটির নাম হলো মঈনুদ্দীন। ডাক নাম মুন্না। সবার কাছে আদর্শ অন্যদের মতোই। তবে গল্পটি তার আলাদা। গ্রামের ছেলে, দিনাজপুরের সদর উপজেলাতে সুবড়া গ্রামে বসবাস। দিনাজপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি। মাত্র ৩.৭৭ সিজিপিএ। পরে মানবিকে চলে এলেন ভালো ফল না থাকায়; এবার চানগঞ্জ কলেজ থেকে সামান্য ভালো করলেন ৪.০৭ জিপিএ নিয়ে। ভর্তি হলেন ঢাকায় এসে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে। তবে সেখানে মানাতে না মানাতেই এলাকার মানুষ, বিভাগের শিক্ষক বললেন, আইন নিয়ে পড়তে পারো মানবিকে পড়েছ বলে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবে।’ সম্মানজনক পেশা ও মানুষকে আলো দেখানোর আশায় তিনি ২০১২ সালে অনেকগুলো টাকা লস করে এবার চলে এলেন বিইউবিটির আইনে। ঢাকার নারায়ণগঞ্জে বড় ভাইয়ের বাড়ি থেকে মিরপুরের ক্যাম্পাসে আসতেন। খুব কষ্ট হতো। পরে ঢাকায় এলেন। পরীক্ষা, লেখাপড়া চলতে লাগল। বিভাগ আর আইনের বিষয়-আশয়ের প্রতি ভালোবাসাও বাড়তে লাগল। মঈনুদ্দীন লেখাপড়ায় আরও মন দিলেন। ২০১৭ সালে এলএলবির পরীক্ষাতে পুরো বিভাগের প্রথম হয়ে পাস করলেন, পেলেন ৩.৯৬ সিজিপিএ। সেই ফেব্রুয়ারি মাসেই এলএলএমের ক্লাসে যোগ দিতে হলো। অবসর জুটল না। ৩৫ জনের মাস্টার্সের শ্রেণিকক্ষে দলগত পাঠ্য আলোচনা ও পড়ার চল শুরু করতে চাইলেন। তবে ১০, ১৫ জনের বেশি জোটাতে পারলেন না। লাইব্রেরিতে নিয়মিত পড়ালেখা করেছেন। নিজের মতো করে বুঝে, পড়ে লিখেছেন সবসময়। ফলে গেল বছরের জানুয়ারিতে ফল পেলেন চারের মধ্যে চার। ‘বিষয়ের প্রতি ভালোবাসা আর পড়ার প্রতি আগ্রহই এই অসাধারণ সাফল্য, দলগত আলোচনা মনে রাখার দক্ষতা করে দিয়েছে’– উত্তর তার। স্কাউটের সদস্য, টিউশনি করে জীবন চালানো ছেলেটি শিক্ষকদের কাছে সারাক্ষণ নানা বিষয়ে পরামর্শ নিয়েছেন। তারাও সাধ্যমতো করেছেন মনে পড়ল। তাদের মধ্যে সামিরা রাহাত মোহনার কথা আলাদা করে বলতে ভুললেন না– তোমাদের সবাইকে অভিনন্দন। আয়কর আইনজীবীর জীবন হবে। মাঝে এমফিল ও পিএইচডি করবেন। বিচারকের ক্যারিয়ার শুরুর ইচ্ছেও আছে। শিক্ষকতা না হলে বিচার তার জীবন কাটাবে। পাঠাগার আন্দোলন করার স্বপ্ন দেখেন। আইন সম্পর্কে জানতে মানুষকে উৎসাহী করতে চান। কারণ আইনে বাঁধা জীবন।