আর সালিশি নিষ্পত্তি নয়, গ্রামীণফোন-বিটিআরসি নিয়ে আদেশ রবিবার

গ্রামীণফোনের কাছে পাওনা প্রায় ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা দাবি নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) করা আবেদনের ওপর আদেশ পিছিয়ে রবিবার ধার্য করেছে আপিল বিভাগ।

আর এ সময়ের মধ্যে পাওনার নিয়ে কোনো ধরনের সালিশি নিষ্পত্তিতে (আরবিট্রেশন) না যেতে গ্রামীণ ফোনকে আপিল বিভাগ নির্দেশ দিয়েছে।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

শুনানিতে গ্রামীণফোনের পক্ষে ছিলেন এএম আমিন উদ্দিন ও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। আর বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।

এর আগে বিটিআরসির পাওনা দাবির মধ্যে গ্রামীণফোন কত দিতে পারবে তা জানাতে দুই দফা সময় দেয় আপিল বিভাগ।

গত বৃহস্পতিবার শুনানিতে গ্রামীণফোনের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, ৩ অক্টোবর অর্থমন্ত্রীসহ দুজন মন্ত্রীর উপস্থিতিতে এক বৈঠকে গ্রামীণফোনের পক্ষে বিটিআরসিকে আপাতত ২০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। শর্ত হিসেবে গ্রামীণফোনের ওপর বিটিআরসির প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়।

শুনানিতে মাহবুবে আলম বলেন, গ্রামীণফোন পাওনা দাবির অন্তত ৫০ ভাগ টাকা পরিশোধ করুক। বাকি টাকার বিষয়ে পরবর্তীতে একটি কমিটি গঠন করে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে।

উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে সর্বোচ্চ আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য সোমবার দিন ধার্য করে।

বিটিআরসির দাবি, যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তি দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে তাদের। সেই টাকা আদায়ে ব্যর্থ হলে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়।

১৯৯৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির পাওনা ও এর সুদসহ এই টাকা দাবি করে ২ এপ্রিল চিঠি পাঠায় বিটিআরসি।