পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় গৃহবধূকে পিটিয়ে, শ্বাসরোধে হত্যা

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের হাটাইলচর গ্রামে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

হাটাইলচর গ্রামের হেলাল মণ্ডলের ছেলে আহম্মদ আলী মণ্ডলের (৩৪) স্ত্রী জেসমিন খাতুনকে (২৫) পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় সোমবার রাতে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হত্যার পর নিহতর লাশ গোয়ালঘরের ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। কিন্তু গ্রামবাসী তাদের এই দাবি অস্বীকার করলে নিহতর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন গরু ছাগল ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে গেছে।

খবর পেয়ে চৌহালি থানা পুলিশ মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে নিহতর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তর জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। গৃহবধূ জেসমিন ওই গ্রামের হেলাল মণ্ডলের ছেলে আহম্মেদ আলী মণ্ডলের (৩৪) স্ত্রী ও একই উপজেলার ওমারপুর ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের কোরবান আলীর মেয়ে।

এই ঘটনায় নিহতর বাবা কোরবান আলী বাদী হয়ে চৌহালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

নিহতের মামা শেখ সাদী জানান, আগের বিয়ের কথা গোপন রেখে ৬ বছর আগে  আহম্মদ আলী তার ভাগনি জেসমিনকে বিয়ে করেন। তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। এরপরেও প্রায়ই আহম্মদ আলী যৌতুকের জন্য জেসমিনকে মারপিট করতো। এর মধ্যে সে গোপনে আরো একটি বিয়ে করে। সে বউ চলে গেলে ঢাকায় কুলির কাজের সুবাদে ঢাকায় এক নারীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরে। জেসমিন এই পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হত। এরই জের ধরে সোমবার রাতে জেসমিন বাবার বাড়িতে যাবার জন্য বের হলে তার স্বামী তাকে বেধরক মারপিট ও শ্বাসরোধে হত্যা করে ওড়না দিয়ে গোয়ালঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে এটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে। এরপর অবস্থা বেগতিক দেখে গরু ছাগল নিয়ে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে চৌহালী থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূ জেসমিনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।