নরসিংদীর হাজিপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অভিনব কায়দায় ডাকাতির নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে। আর ডাকাতির নাটক সাজিয়ে নিজেরাই পুলিশের হাতে ফেঁসে গেছেন । এই ঘটনায় অভিযুক্ত ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার রাত ২ টার দিকে নরসিংদীর হাজীপুর ইউনিয়নের বাদুয়ারচর এলাকার রূপচান মিয়ার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন, নরসিংদীর বাদুয়ারচর গ্রামের রূপচান মিয়া (৪৫), আওয়াল (৫৫), সাত্তার (৫০), হানিফা (৩০), মোজাহিদ (২০), সাকিব (১৭), মোমেনা খাতুন (৪২), মিনার (২৫), হিরন মিয়া (৫৫) সহ আরো ২ জন।
নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ জানায়, নরসিংদীর হাজিপুর ইউনিয়নের বাদুয়ারচর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সেলিম ভূইয়ার সাথে একই গ্রামের রূপচান মিয়ার দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। দ্বন্দ্বের জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে আদালতে মামলা পাল্টা মামলা চলছিল।
এরই মধ্যে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রূপচান মিয়া লোকজন নিয়ে জমিতে হাল চাষ করতে যায়। ওই সময় প্রতিপক্ষ সেলিম ভূইয়ার লোকজন হাল চাষে বাধা দেয়। এরই জের ধরে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২ টার দিকে রূপচান মিয়া ও তার লোকজন বাড়িতে ডাকাত পড়েছে উল্লেখ করে মসজিদে মাইকিং করে। ওই সময় রূপচান মিয়া ও তার লোকজন ব্লেড দিয়ে নিজেরাই হাত কেটে রক্তাক্ত করে। পরে ডাকাতের খবরে গ্রামবাসী বের হয়ে আসে। এসময় চারপাশে ঘেরাও দিয়ে মোজাহিদ ও সাকিব নামে দুই জনকে আটক করে টহলরত পুলিশে দেয়।
পরে পুলিশ আটককৃত দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ওই সময় তারা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম ভূইঁয়াকে ফাসাঁতে ডাকাতির নাটক সাজানোর কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো ৯ জনকে আটক করে।
নরসিংদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সুমন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রাতে টহলরত অবস্থায় মসজিদের মাইকিংয়ে ডাকাতির খবর শুনতে পাই । সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে গিয়ে ২ জনকে আটক করে জানতে পারি ডাকাতির ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য নিজেরা ডাকাতির নাটক সাজিয়েছে। থানায় মামলা করার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। পরে হাসপাতাল থেকে আরো ৯ জন সহ ১১ জনকে আটক করা হয়।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান বলেন, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এরই জেরে তাদের থানায় আনা হয়েছে। সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।