মুর্তজা বশীরের চিকিৎসায় পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড

একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীরের চিকিৎসায় পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বুকে জ্বালা-পোড়ার কারণে গত ১৪ নভেম্বর থেকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) তাকে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান শিল্পীর মেয়ে মুনীরা বশীর। এর আগে গত ২৬ অক্টোবর কিডনি, ফুলফুস ও হৃদযন্ত্রের জটিলতায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সুস্থ হলে তাকে বাসায় নেয়া হয়। এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো।

তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা গতকাল মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় এক বৈঠকে মুর্তজা বশীরের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করেন। প্রফেসর ডা. একিউএম রেজার নেতৃত্বে- ডা. মো. সাদিকুল ইসলাম, ডা. চন্দ্র প্রকাশ, ডা. এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ডা.ফাহমিদা বেগম মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন।

চিত্রশিল্পীর মুর্তজা বশীরের মেয়ে মুনীরা বশীর বলেন, ‘হার্ট ও কিডনির অবস্থা স্থিতিশীল আছে। যার জন্য তাকে অক্সিজেনের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।’

বহু ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ছোট ছেলে মুর্তজা বশীর ১৯৩২ সালে ঢাকার রমনায় জন্মগ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। বিমূর্ত বাস্তবতার চিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ শিল্পী মুর্তজা বশীরের ‘দেয়াল’, ‘শহীদ শিরোনাম’, ‘পাখা’ ছাড়াও অনেক উল্লেখযোগ্য চিত্রমালা রয়েছে। ‘রক্তাক্ত ২১শে’ শিরোনামে ভাষা আন্দোলন নিয়ে ‘লিনোকাট’ মাধ্যমে এঁকেছেন প্রথম ছবি। পেইন্টিং ছাড়াও ম্যুরাল, ছাপচিত্রসহ চিত্রকলার বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি কাজ করেছেন। ‘টাটকার রক্তের ক্ষীণরেখা’ শিরোনামে বইতে নিজের লেখা কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন মুর্তজা বশীর। ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয়েছে তার লেখা উপন্যাস ‘আলট্রামেরিন’। মুদ্রা ও শিলালিপি নিয়েও গবেষণা করেছেন তিনি। চিত্রকলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ১৯৮০ সালে একুশে পদক পেয়েছেন তিনি; স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন ২০১৯ সালে।