শ্রেণি ও পরীক্ষার কক্ষ সংকট ছাড়াও শিক্ষকদের অলসতায় রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) বাড়ছে সেশনজট। প্রায় সব কটি অনুষদে স্নাতক শেষ করতে ৬ মাস থেকে ১ বছর বেশি লাগছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষকরা কারণ ছাড়াই পরীক্ষা পেছান। আবার পরীক্ষা নিলেও, ফলাফল দেরি করে প্রকাশ করেন। এতে পরবর্তী সেমিস্টারে যেতে বিপাকে পড়তে হয়। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন শেখ কামাল ভবনের কার্যক্রম চালু হলে শ্রেণি ও পরীক্ষার কক্ষের সংকট থাকবে না।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিভিন্ন অনুষদে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ক্লাস শেষ হলেও কক্ষের অভাবে পরীক্ষার জন্য দেড় থেকে দুই মাস বসে থাকতে হয়। একইভাবে পরীক্ষা শেষ করে কক্ষ সংকটে পরবর্তী সেমিস্টারে ক্লাসের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। ঠেলেঠুলে ক্লাস-পরীক্ষা শেষ হলেও, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষকরা ফলাফল প্রকাশ করেন না। তাদের অলসতার কারণে সেশনজটে পড়তে হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের চারটি লেভেলে মোট ১৬টি সেকশনে শিক্ষার্থী ১ হাজার ৪২৭ জন। তাদের জন্য রয়েছে মাত্র ৭টি শ্রেণিকক্ষ। ফলে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অষ্টম (শেষ) সেমিস্টার চলার কথা থাকলেও তারা ৮ মাস পিছিয়ে আছেন। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ৭ মাস ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ৬ মাস পিছিয়ে।
অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর জন্য শ্রেণিকক্ষ মাত্র তিনটি। এতে করে শিক্ষাবর্ষভেদে এখানেও সেশনজট ৬-৭ মাস। অ্যাগ্রি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদ ও ফিশারিজ একোয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদেও একই অবস্থা। এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীরা কর্মজীবনে প্রবেশ করা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ছেন।
এক বছরের সেশনজটে পড়া অ্যাগ্রি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শিহাব আলী জানান, তাদের ৬ মাসের সেমিস্টার শেষ করতে লেগে যাচ্ছে ৯ মাসেরও বেশি। প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েও কোনো সুফল পাননি।
এ বিষয়ে কৃষি অনুষদের ডিন ড. মো. ফজলুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অবকাঠামোগত সংকট রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের কারণেই পরীক্ষা পেছানো হয়। এরপরও আমরা সেশনজট কমাতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডটার্ম নেই। এ জন্য শিক্ষার্থীকে একটি লেভেলে সিটি-কুইজ-ল্যাব মিলিয়ে মোটামুটি ৪৯-৫০টি পরীক্ষা দিতে হয়। এর সঙ্গে ব্যবহারিক নোট বুক লেখা, অ্যাসাইনমেন্ট ও প্রেজেনটেশন থাকে। ফলে সরকারি ছুটি বাদে শিক্ষার্থীদের দু-এক দিন পরপরই পরীক্ষায় বসতে হয়। এ কারণে অসুস্থতার জন্য অনেক সময় পরীক্ষা পেছানোর আবেদন করা হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. সেকেন্দার আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শ্রেণি ও পরীক্ষাকক্ষের সংকট নতুন শেখ কামাল ভবন চালু হলে কেটে যাবে। এখন থেকে যারা ভর্তি হচ্ছে, তাদের কোনো সেশনজট থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা মিডটার্ম পরীক্ষার দাবি জানালে, বিবেচনা করে দেখা হবে।’