পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে ভারত সরকার। সেখানে রাখা হবে না নিয়ন্ত্রণও। বাছাই করা কিছু সংস্থায় সরকারি অংশীদারি ৫১ ভাগের নিচে নামিয়ে আনা হবে। এর মধ্যে লাভজনক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, ভারত পেট্রোলিয়াম (বিপিসিএল), কনটেইনার করপোরেশন (কনকর), শিপিং করপোরেশন, নিপকো ও টিহরি জল বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগম (টিএইচডিসিএল)— এই পাঁচ সংস্থার শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এর মধ্যে তিনটির নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে থাকবে না। বাকি দুটির ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হবে অন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার হাতে।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, বিপিসিএল, শিপিং করপোরেশনের যত শেয়ার সরকারের হাতে রয়েছে, তার সবটাই বেসরকারি সংস্থাকে বেচে দেওয়া হবে। তবে বিপিসিএল-এর হাতে থাকা আসামের নুমালিগড় রিফাইনারির বেসরকারিকরণ হবে না। সেটি সরকার বা অন্য কোনো তেল সংস্থা কিনে নেবে।
কনকরের ক্ষেত্রে সমস্ত সরকারি শেয়ার বেসরকারি হাতে দেওয়া না হলেও সংস্থার নিয়ন্ত্রণ সরকারি হাতে থাকবে না। নিপকো ও টিহরি-র শেয়ার অবশ্য বেসরকারি সংস্থাকে বিক্রি করা হবে না। সংস্থা দুটির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এনটিপিসি-র হাতে।
পাশাপাশি ৭৫টি জাতীয় সড়ক প্রকল্পও বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা। এক বছর আগে চালু হওয়া সড়ক প্রকল্পও এর মধ্যে থাকবে।
ভবিষ্যতে আরও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নীকরণের পথ প্রশস্ত করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আর্থিক বিষয়ক কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বেশ কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় সরকারের অংশীদারি ৫১ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হবে। বিলগ্নীকরণের জন্য আরও ২৮টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে বাছাই করেছে। সংস্থার নিয়ন্ত্রণ সরকারি হাতে রাখা হবে কিনা, তা আলাদাভাবে ঠিক হবে।
ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতি চাঙা করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানায় দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। তার জন্য করপোরেট কর কমানো হয়েছে। কিন্তু বেসরকারি লগ্নি আসছে না বলে সরকারি খরচ বাড়ানো প্রয়োজন। ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রেখে সরকারি খরচ বাড়াতে হলে কোষাগারে টাকার জোগান বাড়ানো দরকার। কিন্তু অর্থনীতির ঝিমুনির সঙ্গে আয়কর, জিএসটি আদায়ও কমতে শুরু করেছে। বাজেটে চলতি বছরে বিলগ্নীকরণ থেকে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা তোলার লক্ষ্য নিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু চলতি অর্থ বছরের ছয় মাস কেটে গেলেও মাত্র ১৭ হাজার কোটি টাকা এসেছে। বুধবারের সিদ্ধান্তের পরে সেই লক্ষ্য ছাপিয়ে যাবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়।
এদিকে অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন, আজ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বেচে কোষাগারে টাকা আসতে পারে। আগামীকাল কী হবে? বিশেষত বিপিসিএলের মতো লাভজনক সংস্থা বেচে দেওয়াকে, সংসার চালাতে সোনা বেচে দেওয়া হিসেবেই দেখছেন বিরোধী নেতারা। ২০১৮-১৯ সালে বিপিসিএল প্রায় ৭৮০০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, বিপিসিএল বেচে সরকারের ঘরে অন্তত ৬০ হাজার কোটি টাকা আসতে পারে।
তাদের বক্তব্য, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, শেল, সৌদি অ্যারামকো, কুয়েত পেট্রোলিয়াম, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম, এক্সনের মতো বিদেশি তেল সংস্থা বিপিসিএল কিনতে আগ্রহী হতে পারে। নরেন্দ্র মোদি আমেরিকার হিউস্টনে ‘হাউডি মোদি’ করে ফিরেছেন। বিপিসিএল বিক্রির জন্য হিউস্টনেই ‘রোড শো’ হবে। আর ক্রেতা না-মিললে আর এক রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েলকে বিপিসিএলের শেয়ার বেচে দেওয়া হবে।