বাংলাদেশে অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা ও অস্থিরতা মধ্যে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি দেখতে পাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
তিনি বলেন, “আমার চোখের সামনে এখনো ১৯৭৪ সাল ভাসছে। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে যে অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা ও অস্থিরতা বিরাজ করছিল, আজকে আমার কাছে মনে হয়, সেই একই পদধ্বনি দেখতে পাচ্ছি।”
আরও বলেন, “এখন এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। চালের দাম একদিনে পাঁচ টাকা বেড়েছে। এসব কারণে আমার চোখের সামনে এখনো ১৯৭৪ সাল ভাসছে। দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি দেখতে পাচ্ছি।”
রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বৃহস্পতিবার তিনি এই সব কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৫তম জন্মদিন উপলক্ষে তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় এ আয়োজন করা হয়।
মওদুদ বলেন, “২০১৯ সালটা বর্তমান সরকারের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক একটি বছর। সারা জাতির জন্য একটি দুর্ভাগ্যজনক বছর। একটার পর একটা ঘটনা ঘটেই চলেছে। নুসরাত হত্যা থেকে শুরু ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি, সেখান থেকে শুরু করে যুবলীগের ক্যাসিনো, তারপরে পেঁয়াজ ও লবণের সমস্যা। যে সরকার সামান্য পণ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারে না, সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার আর থাকে না।”
সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই। এই কথা বলতে চাই, এখনই সময়- আপনারা পদত্যাগ করুন। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। যাতে এ দেশের মানুষ নির্ভয়ে-নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। তারা তাদের পছন্দমতো প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। এটাই এখন একমাত্র সময়ের দাবি। আর এটা যদি আপনারা নিজে থেকে না দেন তাহলে দেশের মানুষ আদায় করে নেবে।”
বর্তমান সরকার একটা অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে আছে— মন্তব্য করে মওদুদ বলেন, “বিরোধী দলকে দমন করতে গিয়ে তারা সব মানুষের সুখ-শান্তি নষ্ট করে দিয়েছে। এ জন্য মানুষের মনে শান্তি নাই। একটার পর একটা সংকট দেখা দিয়েছে। গত নির্বাচনে তারা মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়নি বলেই আজকে দেশে এই নৈরাজ্য অবস্থা।”
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের প্রসঙ্গে বলেন, “জামিনে যদি খালেদা জিয়ার মুক্তির না হয় তাহলে একমাত্র বিকল্প হচ্ছে রাজপথে তার মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য দেশের মানুষ প্রস্তুত আছে। তারা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে যে, আমরা কী ধরনের কর্মসূচি দিই। সেই কর্মসূচিতে তারা অংশগ্রহণ করে শুধু খালেদা জিয়াকে নয়, গণতন্ত্রও ফিরিয়ে আনবে।”
মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন ওলামা দলের সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।