অংশগ্রহণ না করেও সমাবর্তন ফি দেওয়া নিয়ে আইনি নোটিশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) প্রথম সমাবর্তনে অংশগ্রহণ না করতে পারলেও পরবর্তীতে মূল সনদপত্র তুলতে সমপরিমাণ ফি দেওয়া এবং সমাবর্তনের জন্য উচ্চ ফি নির্ধারণ করার সিদ্ধান্তকে পরিবর্তন করার জন্য এবার আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ৪র্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. তারেক রহমানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই নোটিশ প্রেরণ করা হয়।

বাদীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভূইয়া এ আইনি নোটিশ প্রেরণ করেন। নোটিশটি ২১ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠানো হয়।

নোটিশে বলা হয়, আগামী ২৭ জানুয়ারি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে অংশগ্রহণে রেজিস্ট্রেশনের জন্য বিকাশের মাধ্যমে প্রত্যেক স্নাতক ডিগ্রীধারীকে ৩৫৪০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর এর ক্ষেত্রে ৪০৫০ টাকা পাঠাতে বলা হয়েছে।

আরও বলা হয়েছে, সমাবর্তনে অংশ না নিলেও সমাবর্তনের সমপরিমাণ ফি দিয়ে সার্টিফিকেট নিতে হবে। যা বে-আইনি। যেখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন শেষ করে বেকার, তাদের উপর বিষয়টি মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

নোটিশটিতে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্নাতক ডিগ্রীধারীদের জন্য ২০০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর এর ক্ষেত্রে ৩০০০ টাকা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন নিবন্ধন ফি বেশি ধার্য করায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছে না।

নোটিশ প্রেরণের তারিখ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নোটিশ দাতার দাবির প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায় সমাবর্তন বন্ধে উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ৬ষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রবিউল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে সমাবর্তনের ফি কমানোসহ সমাবর্তনে অংশ না নিলেও সমাবর্তনের সমপরিমাণ ফি দিয়ে সার্টিফিকেট তোলার এ সিদ্ধান্ত বাতিল করা হোক। সমাবর্তনে অংশ না নিলেও সমাবর্তনের সমপরিমাণ ফি দিয়ে সার্টিফিকেট তোলার নিয়মটি এক ধরনের জুলুম ও অন্যায়। আমরা চাই সবার উপস্থিতিতে একটি সার্থক সমাবর্তন হোক।’

এ বিষয়ে নোটিশদাতা আইনজীবী অ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের বরাবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ফি সংক্রান্ত আইনি নোটিশ প্রেরণ করি এবং সেখানে নোটিশ প্রেরণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। আশা করি নোটিশ গ্রহীতারা এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘আমরা নোটিশটি এখনও হাতে পাইনি তবে নোটিশ সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আমরা হাতে পেলে আমরাও ওইভাবে আইনি ব্যবস্থা নিব।’

সমাবর্তনের জন্য উচ্চ ফি নির্ধারণ ও সমাবর্তনের সমপরিমাণ ফি দিয়ে সার্টিফিকেট তোলার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমরা কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ের সাথে প্রতিষ্ঠিত সমসাময়িক বিশ^বিদ্যালয়গুলোর ফি’র সাথে সমন্বয় করে ফি নির্ধারণ করেছি। আর সমাবর্তনের সমপরিমাণ ফি দিয়ে পরবর্তীতে সার্টিফিকেট তোলার বিষয়টি আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’