চালককে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

ফরিদপুরে ইজিবাইক চালক শওকত মোল্লাকে (২০) হত্যা করে তার ইঞ্জিনচালিত ইজিবাইক ছিনতাই করে নিয়ে যায় অজ্ঞাত ছিনতাইকারীরা।

এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। গত ১৪ নভেম্বর রাতে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তাররা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটিও।

শওকত মোল্লা সালথা উপজেলার দেওয়ালী কান্দা গ্রামের মো. আয়নাল মোল্লার ছেলে। তিনি তার বাবা ও মাকে নিয়ে ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর শামসুল উলুম মাদ্রাসা সংলগ্ন বজলুর রহমান এর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

গত ১৪ নভেম্বর বিকেলে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন শওকত। পরদিন সকালে শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ী সড়ক শেষ মাথা বাইপাস রোডের কাছে আবুল হোসেনের ধানক্ষেতের মধ্যে শওকতের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আয়নাল মোল্লাবাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেন জানান, পুলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত ২০ নভেম্বর ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা হতে উক্ত মামলার ঘটনায় জড়িত সন্দিগ্ধ আসামি শহরের পশ্চিম খাবাসপুর মওলানা আব্দুল আলী সড়ক মো.জনি মোল্লা (২৫) ও সুফী আব্দুল বারী সড়ক এলাকার মো. মেহেদী আবু কাওছারকে (২০) গ্রেপ্তার করে।

পরে তাদের দেওয়া তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার সকালে আসামি রাজবাড়ী সদরের মজলিশপুর এলাকা হতে মো. বাদশা শেখকে (২৬) গ্রেপ্তার করে। বাদশা শেখের বাড়ী হতে শওকতের ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. খায়রুল বাসার বলেন, প্রাপ্ত গোপন তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় ওই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

বৃহস্পতিবার ওই তিন আসামি জেলার এক নম্বর আমলি আদালতে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম ওসমান গণির কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে তারা বলেন, শওকত ব্যবহৃত ইজিবাইকটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তারা পরস্পর যোগসাজশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান শেষে ওই তিন আসামিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।