‘যেখানে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের দাপটে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা জিম্মি, সেখানে মৃত্যুর পর একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার দাফন-কাফনে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেবে, এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রত্যাখ্যান করেছি।’
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরের মুন্সীপাড়া এলাকার আবুল খায়ের ভূঁইয়া নামে এক মুক্তিযোদ্ধা ১৮ নভেম্বর এই প্রতিনিধির কাছে দুঃখ করে কথাগুলো বলেন। তিনি জানান, মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মান গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর ১৬ নভেম্বর একটি লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে তাকে যেন পারিবারিক ও সামাজিকভাবে দাফন করা হয়।
ওই আবেদনের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে পাঠিয়েছেন তিনি। লিখিত ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, দেবীগঞ্জ উপজেলায় ১৬৪ জন মুক্তিযোদ্ধা আছেন। এর মধ্যে ৪৩ জনই ভুয়া। ২০১২ সাল থেকে এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি।
আবুল খায়ের ভূঁইয়া মুক্তিযুদ্ধে ৬ নম্বর সেক্টরের অধীনে একটি কোম্পানির কমান্ডার ছিলেন।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার স্বদেশ চন্দ্র রায় বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কে এটা প্রমাণ করার দায়িত্ব অভিযোগকারীর। যদি ভুয়া কেউ থাকেন তাহলে তিনিই (আবুল খায়ের) তাদের মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের ভূঁইয়া মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মান চান না মর্মে আবেদন পেয়েছি।’