সার্ভিস প্রোভাইডারের বিরুদ্ধে জরিমানার বিধিমালা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ালে সার্ভিস প্রোভাইডারের বিরুদ্ধে জরিমানার বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্তি, চরিত্রহনন ও গুজব ছড়ানো এখন বড় সমস্যা।

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে শুক্রবার ‘বিশ্ব টেলিভিশন দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র, চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ও টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে।

সম্প্রচার নীতিমালা ইতিমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে, সম্প্রচার আইনও পাস হবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সেটি হলে সম্প্রচার মাধ্যমের সাংবাদিকদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে। তারপরও আমরা চিন্তা করছি, সম্প্রচার নীতিমালা যেহেতু বিদ্যমান আছে, এই নীতিমালার আলোকে কীভাবে আইনি সুরক্ষা দেওয়া যায়।

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক নিতাই কুমার ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ মহাপরিচালক (বার্তা) অনুপ কুমার খাস্তগীর।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বেসরকারি টিভির যাত্রা শুরু হয় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। এখন ৩৪টি চ্যানেল সম্প্রচার করছে। আরও ১১টি সম্প্রচারে আসার অপেক্ষায় আছে। ১১ বছরে বেসরকারি টিভির সংখ্যা সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে । প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এই খাতে। টেলিভিশন নতুন প্রজন্মের মনন তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃষ্টি সংস্কৃতি লালনের পাশাপাশি দেশ জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।

টেলিভিশন যেন ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়ী স্বার্থে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শিশু-কিশোরসহ আমাদের পুরো জনগোষ্ঠীর ওপর টেলিভিশনের প্রভাব ব্যাপক। যে মাধ্যমের এত বড় প্রভাব, সেটিকে আমরা জাতিগঠনের বিশাল কাজে লাগাতে পারি। মেধা, মূল্যবোধ ও দেশাত্মবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠী তৈরির সক্ষমতা আমাদের টেলিভিশনের রয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যারা ওয়েজবোর্ডের মাধ্যমে প্রিন্ট মাধ্যমে কাজ করেন, তাদের জন্য আইনি সুরক্ষা আছে। কিন্তু টেলিভিশনের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা এখন পর্যন্ত নেই। আমরা সেটি নিয়ে কাজ করছি।