ব্যাটসম্যানরা গতির কাছে পরাস্ত : হাবিবুল বাশার

প্রথম ঘণ্টায় ২৬ রানে নেই ৪ উইকেট। গোলাপি টেস্টের প্রথম ড্রিংকস থেকে ফেরার সামান্য পর ওপেনার সাদমান ইসলামও নেই।

‘ধ্যাত। আর উইকেট পড়িসনে। ভালো লাগছে না মোটে।’

ইডেন গার্ডেনসের প্রেস বক্সে এই প্রতিবেদকের পেছনের আসন থেকে আশা কৈরি বলে ওঠেন। না, বাংলাদেশের ভক্ত নন। ভারতের ইউপির অবাঙালি নারী সাংবাদিক কলকাতার বাংলা সংবাদ মাধ্যম দিন দর্পণে কাজ করেন। পাঁচ দিনের খেলা টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা টেম্পারামেন্ট দেখাতে পারছিলেন না বলে বিরক্ত আশা। আসলে যে উত্তেজনা-রোমাঞ্চ আর হাইপ নিয়ে কলকাতার এই গোলাপি বলের ঐতিহাসিক টেস্টের শুরু সেটাকে খুব দ্রুত শেষ হয়ে যেতে দেখতে নারাজ।

১৪.২ ওভারে ৩৮ রানে ৫ উইকেট। এর মধ্যে তিনজনের ০। তার ওপর যেভাবে বল বুঝতে না পেরে আউট হলেন ব্যাটসম্যানরা সেটাও চোখে কাঁটা বেঁধানো। কিন্তু কী হয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের? ইন্দোরের চরম ব্যর্থতার চেয়ে নিদারুণ কিছু তখন চোখ রাঙাচ্ছে। কিন্তু কেন?

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন মনে করেন, ‘আত্মবিশ্বাসের অভাব বলতে পারেন।’ প্রশ্ন ছিল সাকিব-তামিম নেই বলে অন্যদের ওপর প্রভাব পড়েছে নাকি? ‘সেটাও হতে পারে। আত্মবিশ্বাসের অভাবও দেখা যাচ্ছে।’

তবে ব্যাটসম্যানরা ইডেনে শামি-উমেশদের কাছে যেভাবে উইকেট দিয়ে এলেন শুরুতে তা দেখে বাংলাদেশের এই নির্বাচকের বিশেস্নষণ, ‘আসলে গতির কাছে হেরে গিয়ে এই সমস্যা। আমার মনে হয় আমাদের ব্যাটসম্যানদের এমন গতির বলের বিপক্ষে মুভমেন্টের সমস্যা ছিল।’

নতুন গোলাপি বলে লাল বলের চেয়ে অনেক বেশি সুইং পান ফাস্ট বোলাররা। এটা আগে থেকে প্রচার হলেও শুরুর ঘণ্টায় তা খুব বেশি মনে হয়নি। চমৎকার শক্ত উইকেটে বাউন্স ছিল যথেষ্ট। অভিজ্ঞ বোলাররা সেটা আদায় করে নিয়েছেন। বল সুইং করানো গেছে। কিন্তু খেলার অযোগ্য ছিল না। ব্যাটসম্যানদের ফুট মুভমেন্টকে তাই হাবিবুল দায়ী করতেই পারেন। টেকনিকের সমস্যার দিকে যায় সেই কথা।

কারও পা চলেনি, কেউ একেবারে শক্ত হয়ে ছিলেন, কেউ প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেরি করে শিকার হয়ে গেলেন। হাবিবুলের কথায় এগুলো আসে। কিন্তু গোলাপি বলের বাড়তি ভূমিকার কথা তিনি মানেন না, ‘পিঙ্ক বলের খুব মুভমেন্ট ছিল বলে তো মনে হয়নি।’

কলকাতার এক সাংবাদিকের প্রশ্ন, তাহলে ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্য নেই এমন কি না। বাংলাদেশের ইতিহাসের অভিষেক টেস্টের খেলোয়াড় হিসেবে সৌরভ গাঙ্গুলিদের আমন্ত্রণে ইডেনে আসা হাবিবুল সেটা মানতে নারাজ– ‘দেখুন, এই ব্যাটসম্যানরাই কিন্তু কিছুদিন আগে ভালো করেছে। মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরি আছে। বড় বড় ইনিংস আছে মুমিনুল হক, ইমরুল কায়েসের। ইমরুলের তো একটা বিশ্বরেকর্ডও আছে। এদের সামর্থ্যে কোনো সমস্যা নেই।’

টেকনিকে সমস্যা দেখা গেছে গতকাল। ইন্দোরেও। এমনকি প্রশ্নবিদ্ধ তার আগে দেশের মাটিতে আফগানিস্তানের কাছে হারা টেস্টেও। লাগাতার বাজে পারফরম্যান্স ব্যাটসম্যানদের। হাবিবুল আরও প্রশ্নে কিছুটা বিব্রত হন, ‘আসলে ভালো হচ্ছে না। ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স গেল কয়েক টেস্ট থেকে একদম ভালো হচ্ছে না। আমাদের এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করতে হবে।’