পেশার খাতিরে কান্না লুকিয়ে হাসির অভিনয় করেছিলেন সিয়াম

আমরা পর্দায় সিনেমা দেখে আনন্দ পেলেও প্রতিটি দৃশ্য বাস্তবায়নের পেছনের কষ্টটুকু জানি না। নায়ক-নায়িকা, কলাকুশলীদের কতটা কষ্ট সহ্য করে যে শুটিং করতে হয় তার ইয়ত্তা নেই। আর দশজনের মতো নায়ক সিয়ামও শুটিং করতে গিয়ে নানা কষ্টকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত ‘বিশ্ব সুন্দরী’ সিনেমা। এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিনেমার চিত্রনাট্যকার রুম্মান রশিদ খান শুটিং চলাকালীন সিয়ামের কষ্ট, ভক্তদের কাছে তার জনপ্রিয়তা ও শুটিংয়ের জন্য সিয়ামের ত্যাগের গল্প তুলে ধরেছেন। রুম্মানের লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘‘অভিনেতা আনন্দ খালেদ গতকাল বলছিলেন, নরসিংদীতে‘বিশ্বসুন্দরী’র শুটিংয়ের সময় প্রতিদিন মানুষের ঢল নেমেছিল। একদিন তিনি দেখেন, ৬ বছর বয়সী একটা বাচ্চা মেয়ে একা এক কোণে বসে কাঁদছে। কারণ কি? জানতে চাইবার পর মেয়েটি বলে ভিড়ের কারণে সে নায়ক সিয়ামকে দেখতে পারেনি। সিয়ামকে না দেখতে পারলে আজ মেয়েটি বাড়িতে ফিরবে না। আনন্দ খালেদ এই বার্তা সিয়ামের কানে পৌঁছে দেয়া মাত্রই সিয়াম সবকিছু ফেলে ছুটে এসে মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরেছিল। আদর করেছিল। মেয়েটির চোখে মুখে তখন যে আনন্দ চিকচিক করে জ্বলছিল, তা লাখ টাকা দিয়েও কেনা যাবে না।

আরেকবার নীলগিরিতে। সিয়ামের চোখে পানি। আনন্দ খালেদ পাশে এসে বসেন। সিয়ামের ফোন অনবরত বেজে চলে। সিয়ামের স্ত্রী তখন হাসপাতালে। অপারেশন হবে। ফোনের ওপর প্রান্তে সিয়ামের বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি। বাড়ির সবাই অনুরোধ করেন, বাবা চলে এসো। অবন্তী তোমাকে খুঁজছে। কিন্তু সিয়াম বুকে পাথর বেঁধে পরিবারকে জানান, আমি যদি এখন ঢাকা ফিরে আসি, নীলগিরির এই শুটিং পুরোপুরি ভেস্তে যাবে। কয়েক লক্ষ টাকা ক্ষতি হবে ইউনিটের। সমালোচনা হবে। আমাকে তোমরা ক্ষমা করো। যত দ্রুত সম্ভব শুটিং শেষ করে আমি চলে আসব। ফোন রেখে সিয়াম নিথর হয়ে বসে থাকে। তার মন পড়ে থাকে ঢাকায়, স্ত্রীর কাছে। কিন্তু পেশার খাতিরে লাইট জ্বলে ওঠার পর ক্যামেরায় তাকিয়ে প্রেমের সংলাপ বলতে হয়। প্রতিটি শট শেষ হয়। আর সিয়াম খোঁজ নেন স্ত্রী কেমন আছে…’’