রবিবার কলকাতা এবং গ্যাবায় ইনিংস ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ইংল্যান্ডের হারের শঙ্কাও বোঝা গিয়েছিল সেদিনই। গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংলিশরাও হারল ইনিংস ব্যবধানে। ইনিংস ও ৬৫ রানে হার তাদের। ৪৩৬ টেস্টে এটি নিউজিল্যান্ডের ৯৯তম জয়, যাকে তাদের অন্যতম সেরা জয় বলছেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।
‘টস হারার পর যদি আপনি ৩৫০ রানে পিছিয়ে পড়েন প্রথম ইনিংসে সেখান থেকে ফিরতে আপনাকে স্পেশাল কিছু করতে হয়’– বলেছেন উইলিয়ামসন। সেই স্পেশাল কিছু করে দেখিয়েছেন মূলত ওয়াটলিং (২০৫) ও স্যান্টনার (১২৬)। তারা দুজন খেলেছে মোট ৭৪২ বল। অধিনায়ক আরও বলেন, ‘৬০০ রান হওয়ায় আমাদের সুযোগ হয়েছে জেতার। মিডল অর্ডার যে জুটি গড়েছে তাতেই এটা সম্ভব হয়েছে। এই কৃতিত্ব তাদের। বিশেষ করে ওয়াটলিংয়ের ডাবল সেঞ্চুরি এবং স্যান্টনারের প্রথম সেঞ্চুরি অনেক মূল্যবান। গ্র্যান্ডহোমও ভালো ব্যাট করেছে।’
চতুর্থ দিন শেষ বিকেলে ইংল্যান্ডের ৩ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন মিচেল স্যান্টনার। তবু আশা ছিল ইংল্যান্ডের। কারণ তখনো ব্যাট করা বাকি ছিল অধিনায়ক জো রুট, বেন স্টোকস, জস বাটলারদের। শেষ দিনে দাঁত কামড়ে ব্যাট করে যেতে পারলেই হতো বে ওভালে। কিন্তু তা আর হতে দেননি ওয়াগনার। গতকাল ব্যাট করতে নেমেছিলেন দুই অপরাজিত ডেনলি, সঙ্গে রুট। প্রথম এক ঘণ্টা দেখেশুনে খেলেন। ড্রর আশা করা শুরু করে ইংলিশ শিবির। কিন্তু ৫১ বল খেলে ১১ রানে ফেরেন রুট। পঞ্চম উইকেটে ডেনলির সঙ্গে ৫২ রানের জুটি গড়েন স্টোকস। কিন্তু লাঞ্চের পর ২৮ করা স্টোকসকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন টিম সাউদি। দলীয় ১২১ রানে নেই ৫ উইকেট।
এরপরই শুরু হয় ওয়াগনার শো। শুরুটা ডেনলিকে দিয়ে। ১৪২ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৫ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এরপর ওলি পোপ (৬), জস বাটলার (০)। ৮ উইকেট হারিয়ে চা-বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড। তবে শেষ সেশনে ১৬ ওভার কাটিয়ে দেন স্যাম কুরান ও জোফরা আর্চার। নবম উইকেটে তাদের ৫৯ রানের জুটি ভাঙেন ওয়াগনার। আর্চার ফেরেন ক্যারিয়ার সেরা ৩০ রানে। পরের বলেই ব্রডকে ফিরিয়ে কিউইদের জয় এনে দেন ওয়াগনার। ৪২ রানে ৫ উইকেট পেলেও ম্যাচসেরার পুরস্কার পান ২০৫ রান করা ওয়াটলিং।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড : ৩৫৩ ও ১৯৭ (ডেনলি ৩৫, আর্চার ৩০, কুরান ২৯*; ওয়াগনার ৫/৪৪, স্যান্টনার ৩/৫৩)। নিউজিল্যান্ড : ১ম ইনিংস ৬১৫/৯ ডি. (ওয়াটলিং ২০৫, স্যান্টনার ১২৬; কুরান ৩/১১৯)। ফল : নিউজিল্যান্ড ইনিংস এবং ৬৫ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা : বিজে ওয়াটলিং।