হাজার বছর বয়সী কিছু গাছ

বয়সে পৃথিবীর সব প্রাণকেই ছাড়িয়ে যেতে পারে গাছ। পৃথিবীতে এমন অনেক গাছ আছে যেগুলো হাজার বছর ধরে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। এসব গাছের বর্ণনা পাওয়া যায় নানা পৌরাণিক কাহিনীতেও। প্রাচীনতম এমন কয়েকটি গাছ নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

ক্যালিফোর্নিয়ার মেথুসেলাহ ট্রি

এটি এক ধরনের ব্রিস্টলকোন পাইনগাছ। মনে করা হয়, বাইবেলে বর্ণিত সবচেয়ে বয়স্ক মানুষটির বয়সের সমান এই গাছটির বয়স। মেথুসেলাহ ট্রি সম্ভবত পৃথিবীতে রয়ে যাওয়া সবচেয়ে পুরনো গাছ। এ গাছটির বয়স প্রায় ৪ হাজার ৮৪২ বছর। এ ধরনের পাইনগাছের সবচেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি মাত্র ৩ ফুট বৃদ্ধি পেতেই সময় নেয় ৭০০ বছর।

পূর্ব ক্যালিফোর্নিয়ার সাদা পাহাড়ের পাশেই আছে ইনিও ন্যাশনাল পার্ক। আর সেই পার্কেই রয়েছে প্রাচীন ব্রিস্টলকোন পাইনের বন। তবে এ গাছের সঠিক অবস্থান নিয়ে দর্শকদের কিছু জানানো হয় না। এর কারণ এ গাছের প্রাচীন বৈশিষ্ট্য। গাছের সুরক্ষার জন্যই এমন নিয়ম মানা হয়। ব্রিস্টলকোন পাইন খুব বেশি লম্বা হয় না। উচ্চতায় খুব বেশি হলে ৫০ ফুটের মতো হয়। আর এ গাছের শাখা-প্রশাখাগুলো লম্বায় হয় ৮ থেকে ১২ ফুট। গাছটি আসলে দেখতে বেঁটে। প্রথম দেখায় মনে হবে গাছ হয়তো আরও বড় হবে কিন্তু আসলে এর উচ্চতা কখনই বৃদ্ধি পায় না। এ গাছ একমাত্র এখানেই আছে। পৃথিবীর অন্য কোনো জায়গায় এর অস্তিত্ব নেই। এত প্রাচীন গাছের অস্তিত্ব আজও আছে ভাবলে খুব অবাক হতে হয়। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, মেথুসেলাহ কিন্তু সবচেয়ে প্রাচীন গাছ হতো না যদি প্রমিথিউস বেঁচে থাকত। প্রমিথিউস মেথুসেলাহর চেয়েও অন্তত ২০ বছর বেশি পুরনো ছিল। ১৯৬৪ সালে একজন ছাত্র ভুল করে গাছটি কেটে ফেলে। সে বুঝতে পারেনি গাছটি কতটা প্রাচীন ছিল। প্রমিথিউস প্রায় পাঁচ হাজার বছর বা তার চেয়েও পুরনো ছিল। এ গাছ নিয়েও গবেষকদের বিস্ময়ের শেষ নেই। প্রমিথিউস না থাকায় সবচেয়ে প্রাচীন গাছের শীর্ষে জায়গা করে নেয় মেথুসেলাহ। গবেষকরা এ গাছ নিয়েও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত এ গাছে কোনো ধরনের অসুস্থতার লক্ষণ বা দুর্বলতা প্রকাশ পায়নি। এ গাছটিও শিগগিরই পাঁচ হাজার বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে বলে আশাবাদ তাদের।

মাটিতে এ গাছের দেখা মেলে খ্রিস্টপূর্ব ২৮৩২ সালের দিকে। মুসা (আ.)-এর জন্মেরও প্রায় ১৫০০ বছর আগে। ততদিনে, মিসরের দ্বিতীয় রাজবংশ সবেমাত্র যাত্রা শুরু করেছে। ওই সময়েরও প্রায় ২০০ বছর পর পর্যন্ত পিরামিড তৈরি হয়নি। মায়া সভ্যতার চেয়েও প্রায় ৮০০ বছর পুরনো এ মেথুসেলাহ গাছটি।

বাইবেল নিয়ে গবেষণা করেছেন এমন বেশ কয়েকজন গবেষকের মতে, মেথুসেলাহ সম্ভবত পৃথিবীতে বেঁচে থাকা এমন একটি প্রাণ যা নুহ (আ.)-এর সময় যে বন্যা হয়েছিল, সেই প্রাচীন আমল থেকে আজও বেঁচে আছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার জেনারেল শারমান

একটি স্বাভাবিক ওকগাছ লম্বায় ৭৫ থেকে ৯০ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। কিন্তু জেনারেল শারমান নামের গাছটির উচ্চতা প্রায় ২৭৫ ফুট। মাটি থেকে ৬০ ফুট ওপরে শারমান ট্রির ব্যাস ১৭.৫ ফুট (৫.৩ মিটার)। বৃহদাকার এ গাছটির প্রজাতি বিশ্বের আর অন্য কোথাও নেই। শাখা-প্রশাখা ছাড়াই এ গাছটিতে প্রায় ৫২ হাজার ৫১৩ ঘন ফুট কাঠ রয়েছে। গাছটির বয়স হিসাব করলে জানা যায়, এটি প্রায় ২৩০০ থেকে ২৭০০ বছরের প্রাচীন। এর অর্থ হচ্ছে, গাছটি থার্মোপলির যুদ্ধেরও আগে। সেই সময়ের যখন ঈসা (আ.)-পৃথিবীতে এসেছিলেন।

২০০৬ সালে জেনারেল শারমানের সবচেয়ে বড় এবং পরিচিত ডালটি ভেঙে যায়। ছবিতে দেখলে ডালটিকে একটি গলফ ক্লাবের আকৃতির মনে হতো। আর নানা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এ ডালটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা হিসেবে কাজ করত। ভেঙে যাওয়া বিশাল এ ডালটিই অন্য অনেক গাছের চেয়ে বড়। ৬ ফুট পুরু আর ১০০ ফুট দীর্ঘ। এই একটি ডালকে নিতে গিয়েই আসতে হয়েছিল একটি ট্রাক। ১৩০ ফুট উচ্চতা থেকে ডালটি ভেঙে পড়ে। এত উচ্চতা থেকে পড়ার কারণে গাছের পাশে সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা রাস্তাতেও অনেক বড় গর্ত তৈরি হয়ে যায়। একটি স্বাভাবিক ওকগাছের তুলনায় জেনারেল শারমান ১০ গুণ বেশি পুরু।

জেনারেল শারমানের শেকড় প্রায় পুরো দুই একরজুড়ে ছড়ানো। এ জায়গাজুড়ে গাছটির প্রায় এক লাখ ঘনফুট পাতা এবং ডালপালার জৈব উপাদান রয়েছে। একটি অলিম্পিক সাইজের সুইমিং পুলের চেয়েও এ আয়তন বেশি। এ গাছ থেকে তৈরি হওয়া বীজের ওজন ১/৬০০০ আউন্স। এ গাছের নামকরণ করা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি জেনারেল উইলিয়াম টি শারমানের নামে। ১৯৩১ সালে চারজন সদস্যের একটি দল নিয়ে বৃহত্তম রেডউড বুল, হার্ট, জেনারেল গ্র্যান্ট আর জেনারেল শারমান এ চারটি গাছ খুঁজে বের করেন। এ চারের মধ্যে শীর্ষে ছিল জেনারেল শারমানই।

ইংল্যান্ডের শেরউড ফরেস্টের ওক

যদি রবিনহুডের গল্প সত্যি হয়ে থাকে তবে তিনি এবং তার মেরি ম্যান ইংল্যান্ডের শেরউড ফরেস্টের এ গাছের নিচেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। এ গাছের গুঁড়ি এত বড় ছিল যে, সহজেই এর মাঝে লুকিয়ে পড়া যেত। রবিনহুডের সময়ের কথা বলা হয় এজন্য যে, এ গাছটি অনেক প্রাচীন। অন্তত ৮০০ থেকে ১০০০ বছরের পুরনো। যেহেতু গল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই রবিনহুডের কথা অবিশ্বাস করার কোনো কারণও নেই। বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, সেই সময় থেকে আজ অবধি গাছটি সেভাবেই দাঁড়িয়ে আছে।

গাছের প্রাণ আছে বলে সে জীবিত কিন্তু শুধু যদি গাছ কথা বলতে পারত তবে হয়তো অনেক ইতিহাস জানা যেত তাদের কাছ থেকে। শেরউড ফরেস্টের ওকগাছটি অনেক প্রাচীন সময়ের সাক্ষী। ভাইকিং জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে, হাস্টিংসদের যুদ্ধ, আগিনকোর্ট, ওয়াটারলু, শেকসপিয়ারের জন্ম-মৃত্যু, হেনরি (৭), ডিকেন্স, ডারউইন, নিউটন, জাফরি চশার, ক্রমওয়েল, দুই বিশ্বযুদ্ধ, ৫০ জনেরও বেশি রাজা– এমন অনেক অনেক ইতিহাস সঙ্গে নিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই ওকগাছ। এত বছর বেঁচে থাকার সময়ে গাছটিকে বাঁচতে হয়েছে আগুন, প্রবল বাতাস, প্রলয়ঙ্করী ঝড় এমনকি সাম্প্রতিক শতাব্দীগুলোর বন উজাড়ের মাঝেও। যুগের পরিক্রমায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে নিজ শাখা-প্রশাখার নিচে অজস্র মানুষ, প্রাণ, পাখিকে আশ্রয় নিতে দেখেছে এই ওকগাছ।

ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় ওকগাছ এটি। প্রায় ২৮ মিটার জায়গাজুড়ে এর আচ্ছাদন। একটি গুঁড়ির আয়তন ১১ মিটার। সম্ভাব্য ওজন ২৩ টনের মতো। ওকগাছটি একা একাই এত বড় নাকি এর সঙ্গে আরও দুই-তিনটি গাছ জুড়ে গেছে তা অবশ্য জানা যায় না। গাছ যে মাটিতে দাঁড়িয়ে আছে সেই মাটিটি খুব একটা ভালো নয়। মাটিতে কিছু এসিডও আছে। এ কারণেই ওকগাছটি বড় হতে সময় নিয়েছে দীর্ঘদিন। আর হয়তো এ কারণেই গাছটি নিজের মতো করে ধীরে ধীরে বড় হয়েছে, ছড়িয়েছে বিস্তর শাখা-প্রশাখা। গাছটি অনেক বড় সন্দেহ নেই, তবে এর আকৃতির কারণে এটিকে সর্ববৃহৎ বলা হয় এমন নয়। ১৯৭০ সালে মেজর হেইম্যান রুক ওকগাছটির বিশালত্ব নিয়ে আর এর অবস্থানের জায়গা নিয়ে একটি বই লেখেন। তার সম্মানেই এরপর থেকে গাছটিকে বৃহৎ হিসেবে ধরা হয়।

ওকগাছটির ভেতর দিয়েও উঁচুতে ওঠার ব্যবস্থা ছিল। শুধু তাই নয়, এর মাঝ দিয়ে হাঁটাও যেত। আর এ কারণে প্রচুর দর্শনার্থী গাছটিকে একবার হলেও দেখতে আসতেন। এত মানুষের পদচারণার কারণে গাছটির শিকড়ে বেশ ক্ষতি হয়। পরে গাছের সুরক্ষায় ১৯৭০ সাল থেকে এর আশপাশে বেড়া দিয়ে দেওয়া হয়। গাছটি নিয়ে আরও বিস্তর গবেষণার জন্য এবং পরবর্তী সময়ে গাছটি দেখতে কেমন হবে তা জানতে বর্তমানে ডরসেটের সাউথওয়েস্টে এ গাছের ২৬০টি চারা রোপণ করা হয়েছে।

লিয়াঙ্গারনিউ জিউ ওয়েলস

ওয়েলসের লিয়াঙ্গারনিউয়ের আঙ্গিনায় রয়েছে এই জিউগাছের উপস্থিতি। এ গাছের মূল গুঁড়ি অনেক আগেই শুকিয়ে গেছে। সেগুলোকে মৃতই বলা চলে। তবে বর্তমানে কিছু বড় গুঁড়ি রয়েছে যেগুলো মূল গুঁড়ি থেকে আলাদা। এ গুঁড়িগুলো মূল গুঁড়ি থেকে অঙ্কুরিত হয়নি। তবে মূল অংশটি মারা যাওয়ার আগপর্যন্ত সেটির একটি অংশ হিসেবেই এগুলো বেঁচে ছিল। পরে নিজেরা আলাদা হয়ে একা একা জীবিত অবস্থায় রয়ে যায়। ওয়েলসের এ প্রাচীন গাছটি শুধু সুন্দরই নয়, ইতিহাসের অনেক ঘটনাই জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে।

স্থানীয়দের মতে, লিয়াঙ্গার জিউগাছটিতে ‘অ্যাঞ্জেলিসটর’ নামে একটি প্রাচীন আত্মা থাকে। ওয়েলসের পুরাণমতে, প্রতি বছরের হ্যালোইনের দিন এবং ৩১ জুলাই সেই প্রাচীন আত্মা চার্চের সামনে আসেন এবং একজন প্যারিশ সদস্যের নাম ধরে ডাকেন। এ ঘটনার ঠিক এক বছরের মাঝে সেই সদস্য মারা যান। এ তথ্যটি নিয়েও একটি গল্প প্রচলিত আছে স্থানীয়দের মাঝে। রবার্ট নামে এক ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে সেই প্রাচীন আত্মার ডাকে কে মারা যাবেন তার লিস্ট জানতে আত্মার সামনে যাবেন বলে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি ঠিক করেন, হ্যালোইনের রাতেই তিনি আত্মার সামনে উপস্থিত হবেন। যখনই তিনি চার্চের ভেতর প্রবেশ করলেন তখনই নিজের নাম শুনতে পেলেন। তিনি বলতে চেয়েছিলেন, তিনি তখনো মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত নন এবং আত্মাকে অনুরোধ করেন তাকে যেন না মেরে ফেলা হয়। কিন্তু সেই ঘটনার এক বছরের মাঝেই তার মৃত্যু হয়। লিয়াঙ্গারনিউয়ের অনেক গ্রামবাসীই আজও বিশ্বাস করেন চার্চে এখনো সেই প্রাচীন আত্মার উপস্থিতি আছে।

জিউগাছটির বয়স ধরা হয় প্রায় ৪০০০ থেকে ৫০০০ বছর। পৃথিবীতে বেঁচে থাকা তিনটি প্রাচীন গাছের এটি একটি। গাছটি শুধু বেঁচে আছে বললে ভুল হবে, দিন দিন আরও বড় হচ্ছে। এ গাছের ডাল আরও শক্ত হচ্ছে, যা ব্যবহার করা হচ্ছে ইংরেজদের ধনুক তৈরিতে।

ভভিসক্রিটের জলপাইগাছ

বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো জলপাইগাছ এটি। প্যাঁচানো আকৃতির এ গাছটির বয়স প্রায় চার হাজার বছর। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এত প্রাচীন হওয়া সত্ত্বেও এ গাছে আজও প্রতি বছর জলপাই হয় এবং সেগুলো বেশ সুস্বাদুও বটে। এর গোড়া প্রায় ১৫ ফুট পুরু। সাধারণভাবে জলপাই গাছের আকৃতি যেমন দেখা যায় তেমন খুব বেশি লম্বা আকৃতির নয় গাছটি। গাছের গুঁড়ি একদম প্যাঁচানো আর বেশ শক্তিশালী। যেহেতু গাছের বয়স এত বেশি কাজেই বোঝা যায় গাছটি প্রাচীন অনেক গল্পেরও সাক্ষী। এটি সম্ভবত সেই গাছ যেটি সম্পর্কে লিখেছেন রোমান সাহিত্যিক এবং দার্শনিক প্লাইনি দ্য এলডার। তার কোনো এক লেখায় তিনি ১৬০০ বছর পুরনো একটি গ্রিক জলপাইগাছের বর্ণনা করেছিলেন। হয়তো এ গাছটিই সেই লেখার সাক্ষী। জেরুজালেমের গেথসেমেন গার্ডেনে এ গাছের অবস্থান হলেও যিশুর সেই সময়ের কোনো ঘটনায় এর উপস্থিতি পাওয়া যায় না। আবার অনেকেই বলেন গাছটি অনেক প্রাচীন সেই বিষয়ে সন্দেহ নেই, তবে সম্ভবত এটির উৎপত্তি অন্য কোনো গাছ থেকে।

জলপাই থেকে আজ যে অনেক কিছু বানানো হয় সেই ইতিহাস যে পুরনো তার প্রমাণ মেলে এ গাছের অবস্থান থেকেই। রাজ্যকে সমৃদ্ধ করতে রপ্তানির জন্য জলপাই তেল সংগ্রহ করা হতো। এমনকি অনেক চিকিৎসাতেও এ তেলের ব্যবহার ছিল। খাবারের পাশাপাশি পারফিউম আর ওষুধ তৈরিতেও জলপাইয়ের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। জলপাইকে যে শুধু খাবার আর নানা কিছু বানানোর জন্য ব্যবহার করা হতো তাই নয়, এ গাছের নিচে চলত উপাসনা। অটোম্যান এবং জার্মানরা ছাড়াও রোমানরা এ গাছের নিচে বিভিন্ন যুদ্ধের সময় আশ্রয় নিত বলে ধারণা করা হয়।